আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংঘটিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আকাশপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। এবারের গ্রহণটি হবে বলয়াকার সূর্যগ্রহণ—যাকে সাধারণভাবে ‘রিং অব ফায়ার’ বা আগুনের বলয় বলা হয়। আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী ঘটনাটি শুরু হবে সকাল ৭টা ১ মিনিটে এবং এর সর্বোচ্চ স্থায়িত্বকাল হতে পারে প্রায় ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড। এ তথ্য প্রকাশ করেছে হিন্দুস্তান টাইমস।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বলয়াকার সূর্যগ্রহণ ঘটে তখনই যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান নেয়, কিন্তু পৃথিবী থেকে তুলনামূলক দূরে থাকায় সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না। ফলে সূর্যের চারপাশে উজ্জ্বল আগুনের মতো একটি বলয় দৃশ্যমান হয়, যা দেখতে আংটির মতো লাগে। এই গ্রহণের সময় চাঁদ সূর্যের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশ ঢেকে ফেলবে, আর অবশিষ্ট অংশ থেকেই তৈরি হবে সেই আলোকবলয়।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে—এই গ্রহণ কি এখান থেকে দেখা যাবে? সংশ্লিষ্ট মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গ্রহণের সময় সূর্য দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে দৃশ্যমান থাকবে না। কারণ ঘটনাটি মূলত দক্ষিণ গোলার্ধে সংঘটিত হবে, ফলে এ অঞ্চলের দেশগুলো থেকে এটি দেখা সম্ভব হবে না।
সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে বলয়াকার সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে, বিশেষ করে সেখানে অবস্থিত গবেষণা কেন্দ্রগুলো থেকে। এছাড়া আফ্রিকার কিছু অঞ্চল—যেমন তানজানিয়া, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে—থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা ও চিলি–র কিছু অংশ থেকেও আংশিকভাবে এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রহণের বলয় অঞ্চলগুলোর অধিকাংশই দুর্গম ও জনবসতিহীন হওয়ায় সরাসরি ‘রিং অব ফায়ার’ দেখার সুযোগ খুব সীমিতসংখ্যক মানুষের কাছেই পৌঁছাবে। তবুও জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাজাগতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



