সাম্প্রতিক সময়ে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই বাড়ছে। ছোটখাটো বিষয় ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক হলেও বারবার ভুলে যাওয়া, পরিচিত মুখ বা নাম মনে না থাকা কিংবা দৈনন্দিন কাজে সমস্যায় পড়া—এসব হতে পারে স্মৃতিভ্রংশ বা মেমোরি লসের লক্ষণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুলে যাওয়ার রোগ হঠাৎ করে দেখা দেয় না; বরং ধীরে ধীরে নানা শারীরিক ও মানসিক কারণে এটি তৈরি হয়। তবে সচেতন হলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা ভুলে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। দীর্ঘ সময় চিন্তায় থাকলে মস্তিষ্ক নতুন তথ্য সঠিকভাবে গ্রহণ ও সংরক্ষণ করতে পারে না। একইভাবে নিয়মিত ঘুমের অভাব মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে, ফলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে শুরু করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কিছুটা কমে যাওয়া স্বাভাবিক হলেও, তা যদি দ্রুত বা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে, তখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ডিপ্রেশন ও উদ্বেগজনিত সমস্যাও স্মৃতিভ্রংশের বড় কারণ হতে পারে। এসব মানসিক সমস্যায় ভুগলে মনোযোগ কমে যায়, যার প্রভাব পড়ে মনে রাখার ক্ষমতার ওপর। এ ছাড়া শরীরে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি কিংবা আয়রনের ঘাটতি থাকলেও ভুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেও স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও ভুলে যাওয়ার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ঘুমের ওষুধ, ডিপ্রেশন নিয়ন্ত্রণের ওষুধ কিংবা কিছু ব্যথানাশক দীর্ঘদিন সেবনে স্মৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া স্ট্রোক, মাথায় আঘাত, মস্তিষ্কের টিউমার কিংবা আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার মতো জটিল রোগ ভুলে যাওয়ার গুরুতর কারণ হিসেবে বিবেচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি পরিচিত মানুষের নাম ভুলে যাওয়া, বারবার একই কথা বলা, দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা হওয়া কিংবা সময় ও জায়গা নিয়ে বিভ্রান্তির মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম, পুষ্টিকর খাবার—যেমন শাকসবজি, মাছ ও বাদাম—গ্রহণ, বই পড়া, ধাঁধা সমাধান করা বা নতুন কিছু শেখার অভ্যাস মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমানো ও নিয়মিত হাঁটাহাঁটি স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে সহায়ক। ছোট ছোট এই অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।



