মেয়েদের ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করল বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলার কিশোরীরা। নেপালের পোখারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই ভুটানকে ১২–০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে কার্যত ‘খেলা শিখিয়ে’ দিয়েছে বাংলাদেশ দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় বাংলাদেশ। গোলের বন্যায় তিনজন খেলোয়াড় হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব দেখান। মোসাম্মৎ মুনকি আক্তার একাই চারটি গোল করেন। আলপি আক্তার ও শ্রীমতি তৃষ্ণা রানি করেন তিনটি করে গোল। এ ছাড়া একটি করে গোল করেন অর্পিতা বিশ্বাস অর্পি ও মামনি চাকমা।
২৭ মিনিটে কর্নার থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে গোল করে বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেন মামনি চাকমা। এরপর ৪৩ মিনিটে শ্রীমতি তৃষ্ণা দ্বিতীয় গোলটি করেন। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জোড়া গোল করে মোসাম্মৎ মুনকি আক্তার। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় মিনিটে তার দুই গোলে প্রথমার্ধ শেষে বাংলাদেশ ৪–০ গোলে এগিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও ভয়ংকর রূপ নেয় বাংলাদেশ। ৫৪ মিনিটে তৃষ্ণা রানি করেন পঞ্চম গোল। একের পর এক আক্রমণে ভুটানের রক্ষণভাগ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। পঞ্চম গোল হজমের পর ভুটান গোলরক্ষক পরিবর্তন করলেও তাতেও কোনো লাভ হয়নি। আলপি, মুনকি ও সতীর্থদের অবিরাম আক্রমণে গোলের ব্যবধান বাড়তেই থাকে। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে আলপি আক্তার শেষ গোলটি করে ১২–০ ব্যবধানে বিশাল জয় নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, নারী সাফে অনূর্ধ্ব-১৮, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২০—এই তিন স্তর মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ছয়টি টুর্নামেন্টের মধ্যে পাঁচবারই শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়। একই বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত নারী অনূর্ধ্ব-২০ সাফেও শিরোপা ঘরে তোলে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
চলমান টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে অনেকটাই এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। লিগ পর্বে তাদের পরবর্তী ম্যাচ ২ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে। ৪ ফেব্রুয়ারি শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ নেপাল। চার দলের এই টুর্নামেন্টে লিগের সেরা দুই দল ৬ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে মুখোমুখি হবে।



