ভাত আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য খাবার। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য—ভাত খাওয়ার মাধ্যমেই ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল The Lancet Planetary Health-এ প্রকাশিত এ গবেষণা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
আমেরিকার কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ধীরে ধীরে চালের মধ্যে বাড়ছে আর্সেনিকের পরিমাণ। পৃথিবীর তাপমাত্রা যখন ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি বেড়ে যায় এবং বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, তখন মাটির রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন আসে। এর ফলে ধানের শীষে বেশি আর্সেনিক জমা হয়।
গবেষক দলের প্রধান লুইস জিসকা জানান, শুধু ক্যানসারই নয়, আর্সেনিকের কারণে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, গর্ভকালীন জটিলতা, স্নায়ুর সমস্যা ও আরও অনেক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
গবেষণায় ১০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের ২৮টি ধানের জাত নিয়ে। এতে দেখা গেছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোটি কোটি মানুষ ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। বিশেষ করে ফুসফুস ও মূত্রথলির ক্যানসারের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। শুধু চীনেই ২০৫০ সালের মধ্যে চালের আর্সেনিকের কারণে প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
কেবল ক্যানসার নয়
আর্সেনিকের উপস্থিতি আরও নানা জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে—
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়
অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য মারাত্মক সমস্যা তৈরি করে
শিশুদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে ব্যাঘাত ঘটায়
শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়
সমাধান কী?
ভাত খাওয়া পুরোপুরি বাদ দেওয়া কোনো সমাধান নয়। তবে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ঝুঁকি অনেকটা কমানো সম্ভব:
আর্সেনিক-সহনশীল ও উন্নত জাতের ধান তৈরি
জমির মাটির গুণমান নিয়ন্ত্রণ
নিরাপদ পানি দিয়ে সেচ প্রদান
মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি
সরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ
ভাত আমাদের প্রধান খাদ্য। তাই একে বাদ না দিয়ে বরং পরিবেশবান্ধব কৃষি, আধুনিক প্রযুক্তি ও জনসচেতনতার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। কারণ সচেতন জীবনই পারে আমাদের বাঁচাতে ক্যানসারের মতো মারণ রোগ থেকে।



