স্তন ক্যানসার মানেই অবধারিত মৃত্যু নয়; বরং সঠিক সময়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং পর্যায় বা ‘স্টেজ’ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করলে সুস্থ জীবনে ফেরা সম্ভব। চিকিৎসকরা সাধারণত টিউমারের আকার (T), লিম্ফ নোডে এর বিস্তৃতি (N) এবং শরীরের অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়া (M)—এই তিন পদ্ধতির সমন্বয়ে ক্যানসারের স্টেজ নির্ধারণ করেন। এর সাথে হরমোন রিসেপ্টর ও জেনেটিক টেস্টের মতো আধুনিক বায়োমার্কারগুলোও এখন সঠিক স্টেজ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। সচেতনতার জন্য স্তনে চাকা, চামড়ায় পরিবর্তন বা নিপল থেকে তরল নির্গত হওয়ার মতো লক্ষণগুলোর দিকে নজর রাখা জরুরি।
স্তন ক্যানসারের ধাপগুলোকে প্রধানত ০ থেকে ৪ পর্যন্ত ভাগ করা হয়। স্টেজ ০ হলো একেবারে প্রাথমিক ধাপ, যেখানে ক্যানসার কোষ কেবল দুধের নালির ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকে। স্টেজ ১ ও ২-এ ক্যানসার কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং পার্শ্ববর্তী টিস্যু বা অল্প কিছু লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়ে। স্টেজ ৩-এ এটি আরও বিস্তৃত হয়ে বুকের দেয়াল বা চামড়ায় ছড়িয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে জটিল হলো স্টেজ ৪, যাকে ‘মেটাস্ট্যাটিক ক্যানসার’ বলা হয়; এই পর্যায়ে ক্যানসার স্তন ছাড়িয়ে হাড়, ফুসফুস বা লিভারের মতো দূরবর্তী অঙ্গে পৌঁছে যায়।
পরিসংখ্যান বলছে, যদি ক্যানসার কেবল স্তনেই সীমাবদ্ধ থাকে (স্টেজ ০ বা ১), তবে সারভাইভাল রেট বা বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় ৯৯ শতাংশ। এমনকি জটিল পর্যায়েও উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে জীবনকে অনেকখানি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। তাই ভয় না পেয়ে নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণই হতে পারে জীবন বাঁচানোর প্রধান হাতিয়ার। মনে রাখবেন, দ্রুত শনাক্তকরণই ক্যানসার জয়ের প্রথম ধাপ।



