২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকা অবশেষে প্রকাশিত হয়েছে। তালিকায় রয়েছে বেশ কিছু চমকপ্রদ নাম। ফুটবল ভক্তদের চোখ এখন তিনজনের দিকে—ওসমান দেম্বেলে, লামিন ইয়ামাল ও মোহাম্মদ সালাহ। এবারের আসর হতে যাচ্ছে এক যুগান্তকারী ব্যালন ডি’অর, যেখানে অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তারুণ্যের তেজ।
প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন ওসমান দেম্বেলে। ফাইনালে দুটি গোল করানোর মাধ্যমে তিনি পুনরায় গড়েছেন ইতিহাস—মার্সেলোর পর এই কীর্তি আর কেউ দেখাতে পারেননি। গত মৌসুমে তার গোল সংখ্যা ৩৩ ও অ্যাসিস্ট ১৩। মোট ৪৬টি গোল অবদান রাখা দেম্বেলে এখন এক কিংবদন্তি ফরাসি তারকায় পরিণত হয়েছেন। ব্যালন ডি’অর জিতলে তিনি হবেন ষষ্ঠ ফরাসি খেলোয়াড়, যিনি এই স্বীকৃতি অর্জন করবেন।
বার্সেলোনার বিস্ময়-বালক লামিন ইয়ামাল গত মৌসুমে করেছেন ১৮টি গোল ও ২১টি অ্যাসিস্ট। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে সবচেয়ে বেশি ২৪৪টি সফল ড্রিবল করে তিনি নতুন রেকর্ড গড়েছেন। বার্সার আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন তিনি।
তার সতীর্থ রাফিনহাও দারুণ ছন্দে ছিলেন। তিনি চ্যাম্পিয়নস লিগে ২১টি গোল অবদান রেখে ছুঁয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ২০১৩-১৪ মৌসুমের রেকর্ড। বার্সার হয়ে তার মৌসুমে ১৩ গোল—মেসির ১৪ গোলের রেকর্ডের ঠিক পরেই অবস্থান।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মোহাম্মদ সালাহ গড়েছেন অনন্য কীর্তি—এক মৌসুমে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ৪৭টি অবদান। এর আগে এ রেকর্ড ছিল কেবল অ্যান্ড্রু কোল ও অ্যালান শিয়ারারের। এই অভাবনীয় পারফরম্যান্স তাকে ব্যালন ডি’অরের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী করেছে।
রিয়াল মাদ্রিদে কিলিয়ান এমবাপ্পে প্রথম মৌসুমেই করেছেন ক্লাব ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪৩ গোল। তালিকায় আছেন আরও দুই রিয়াল তারকা—ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহাম। তারা প্রত্যেকেই ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে।
সিরি আ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মাত্র তিনজন। সবচেয়ে আলোচিত নাম স্কট ম্যাকটমিনে। নাপোলির হয়ে প্রথম মৌসুমেই ১২ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছেন। ২০১০-১১ মৌসুমের পর কোনো মিডফিল্ডার এত বড় অবদান রাখেননি।
গোলরক্ষকদের জন্য বরাদ্দ ইয়াশিন ট্রফির দৌড়ে এগিয়ে আছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তিনি করেছেন ১৫৬টি সেভ, এবং টানা তৃতীয়বার ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ডোনারুম্মা, ইয়ান সমার, থিবো কোর্তোয়া, আলিসন, দাভিদ রায়া ও মাতজ সেলস।
২১ বছরের নিচে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের কোপা ট্রফির জন্য আবার মনোনীত হয়েছেন ইয়ামাল। গতবার স্পেনকে ইউরো জেতানোয় এই পুরস্কার পেয়েছিলেন। এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী পিএসজির দেজিরে ডুয়ে, যিনি চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে গোল ও অ্যাসিস্ট করার কীর্তি গড়েছেন।
নারী ফুটবলের ব্যালন ডি’অরে এবার ইংল্যান্ড-স্পেন দ্বৈরথ। ইংল্যান্ডের লিয়া উইলিয়ামসন, ক্লোয়ি কেলি ও আলেসিয়া রুসোর বিপরীতে রয়েছেন স্পেনের আলেক্সিয়া পুতেয়াস, আইতানা বোনমাতি ও প্যাট্রি গুইহারো। চ্যাম্পিয়নস লিগের পারফরম্যান্সই এবার মূল নির্ধারক হতে পারে।
সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর হতে যাচ্ছে ফুটবল জগতের জন্য এক স্মরণীয় মুহূর্ত। দেম্বেলের নান্দনিকতা, ইয়ামালের তারুণ্য, রাফিনহার ধারাবাহিকতা না সালাহর দুর্দান্ত রেকর্ড—কে জিতবেন ফুটবলের সোনালি মুকুট? উত্তর মিলবে আগামী অক্টোবরে।



