বর্তমান যুগে সম্পর্কের ধরনে অনেক পরিবর্তন এলেও প্রিয় মানুষের বিষয়ে বন্ধুদের ওপর নির্ভরতা এখনো আগের মতোই আছে। প্রায়শই প্রেমের সম্পর্কের খুঁটিনাটি বিষয়ে আমরা বন্ধুদের পরামর্শ খুঁজি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই নির্ভরতাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। সম্পর্কের মাঝে বন্ধুদের অতিরিক্ত নাক গলানো বা হস্তক্ষেপ বর্তমানে বিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের অনুভূতির চেয়ে বন্ধুদের পছন্দ-অপছন্দকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে অনেকেই অজান্তে নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সম্পর্কের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বন্ধুদের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হলে প্রথমেই একটি মজবুত ‘সীমারেখা’ বা বাউন্ডারি তৈরি করা জরুরি। সম্পর্কের সব গোপন কথা বা সঙ্গীর ব্যক্তিগত বিষয় বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন, পরামর্শ বন্ধুদের কাছ থেকে নিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি যেন আপনার নিজের হয়। সঙ্গীর ব্যক্তিগত চ্যাট বা একান্ত আলাপচারিতা বন্ধুদের সামনে প্রকাশ করলে বিশ্বাসের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্কের ক্ষতি করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঝে মাঝে কিছুটা কঠোর হওয়াও প্রয়োজন। কেউ ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রশ্ন করলে ভদ্রভাবে এড়িয়ে যাওয়া বা সরাসরি জানিয়ে দেওয়া উচিত যে আপনি এ বিষয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন না। যদি ঘনিষ্ঠ বন্ধুও আপনার ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান না জানায়, তবে সরাসরি প্রতিবাদ করাই শ্রেয়। মনে রাখবেন, সুস্থ সম্পর্কের জন্য ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা যতটা জরুরি, ঠিক ততটাই জরুরি বন্ধুদের বোঝানো যে সব বিষয়ে তাদের মতামত গ্রহণ করা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক নয়।



