আজ ১ আগস্ট, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ, যা ১ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হবে। শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, মাতৃদুগ্ধের উপকারিতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মায়েদের স্তন্যদানে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশেও দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশন সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।
বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে। ১৯৯০ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে গৃহীত ইনোসেনটি ঘোষণা-র প্রেক্ষাপটে ১৯৯২ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ যৌথভাবে এ কর্মসূচি শুরু করে। এরপর থেকেই প্রতি বছর ১ থেকে ৭ আগস্ট বিশ্বব্যাপী স্তন্যদান সপ্তাহ হিসেবে পালিত হচ্ছে, যার মাধ্যমে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং মায়েদের সচেতন করতে বিভিন্ন প্রচারাভিযান পরিচালিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুর জন্য মায়ের দুধই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ও আদর্শ খাদ্য। এতে শিশুর প্রয়োজনীয় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে এবং ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কান ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, অ্যালার্জি, একজিমা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত ওজন এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মাতৃদুগ্ধ পান শিশুমৃত্যুর হার প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সহায়তা করে এবং শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মাতৃদুগ্ধ শুধু শিশুর জন্যই নয়, মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত স্তন্যদান মায়ের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসার, জরায়ুর ক্যানসার ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি মা ও শিশুর মধ্যে গভীর মানসিক বন্ধন গড়ে ওঠে, যা শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশে সহায়ক। এছাড়া মাতৃদুগ্ধ সবসময় জীবাণুমুক্ত, নিরাপদ এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে আজ সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি-তে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়া স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।



