বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদ তাসদিক দীপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি স্টাডি ইউকে–ব্রিটিশ কাউন্সিল অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর সায়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ক্যাটাগরিতে বিশ্বের সাতজন গ্লোবাল ফাইনালিস্টের একজন হিসেবে মনোনীত হয়েছেন—যা বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য গর্বের বিষয়।
চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি প্রার্থী এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের জন্য আবেদন করেন। কঠোর ও প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২২টি দেশের মাত্র ২৮ জন অ্যালামনাই চারটি ক্যাটাগরিতে চূড়ান্ত মনোনয়ন পান। সেই নির্বাচিত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তাসদিক দীপ।
নিজের এই অর্জনকে শিক্ষাজীবনের অন্যতম বড় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে তাসদিক দীপ বলেন, এমন স্বীকৃতি তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। তিনি তাঁর উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান কিংস কলেজ লন্ডন এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন (LSHTM)-এর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন তাঁর গ্লোবাল মেন্টাল হেলথ বিষয়ক চিন্তা, গবেষণা ও কাজের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে বলে জানান তিনি।
এই অর্জনের পেছনে অনুপ্রেরণাদাতা হিসেবে তিনি বিশেষভাবে মুস্তাক ভাই-এর কথা উল্লেখ করেন, যিনি তাকে আবেদন করতে উৎসাহিত করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি কামরুন এন. কোলি আপু-র অব্যাহত অনুপ্রেরণার কথাও স্মরণ করেন। তাঁর পিএইচডি সুপারভাইজার রইসিন ম্যাকনেই, জেসিকা ওয়াটারসন, ডেলভিন ভার্গিস ও খালিদ হোসেন-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাসদিক দীপ।
এই সম্মান তিনি উৎসর্গ করেছেন তাঁর পরিবারকে। বাবা-মা ডালিয়া হাসান ও শামসুল হাসান দাদুল-এর অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি শুধু তাঁর একার নয়; এটি পুরো পরিবারের ত্যাগ, ধৈর্য ও সমর্থনের প্রতিফলন।
চলতি বছরের শুরুতে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ন্যাশনাল অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ড তাঁর অনুপস্থিতিতে গ্রহণ করেন তাঁর স্ত্রী নোদি এবং বড় ছেলে নুরাজ। তাঁদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অবিচল সমর্থনই আজকের এই বৈশ্বিক স্বীকৃতির পেছনে অন্যতম শক্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ছোট ছেলে শাহীর-কেও তিনি তাঁর জীবনে নতুন আলোর উৎস হিসেবে অভিহিত করেন।
আগামী আগস্টের শেষ দিকে এই পুরস্কারের চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। তবে তাসদিক দীপের মতে, চূড়ান্তভাবে মনোনীত ২৮ জনই ইতোমধ্যে বিজয়ী। এই অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া আন্তর্জাতিক গবেষণা, বিজ্ঞান ও টেকসই উন্নয়ন অঙ্গনে আরও একবার গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব পেল।



