ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও বাণিজ্যিকভাবে সফল আসরগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল মাত্র ১৩টি দল। দীর্ঘ ২২টি আসর পেরিয়ে ২৩তম বিশ্বকাপে এসে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮-এ। দলসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে যেমন প্রতিযোগিতার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে ফিফার আয় ও প্রাইজমানির পরিমাণ। এর সুফল পাচ্ছে বিশ্বজুড়ে ফিফার সদস্য দেশগুলো, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশও।
এবারের বিশ্বকাপ উপলক্ষে ফিফা রেকর্ড ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে, যা আগের আসরের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি। ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী, বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয়ের একটি বড় অংশ সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়। ফলে টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) দেশের ফুটবলের অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফিফার এই অর্থ বণ্টন ব্যবস্থা নিয়ে সাবেক জাতীয় ফুটবলার জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বলেন, বিশ্বকাপ থেকে ফিফা যে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে, তার একটি অংশ বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব সদস্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে বণ্টন করা হয়। তার মতে, ফিফার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যই হলো সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করা। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো নতুন করে অনুপ্রাণিত হচ্ছে এবং বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাও আগের তুলনায় বেড়েছে।
এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দল শুরুতেই প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও যাতায়াত ব্যয়ের জন্য ২.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পেয়েছে। এরপর গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো অতিরিক্ত ১০ মিলিয়ন ডলার অর্জন করেছে। নকআউট পর্বের বিভিন্ন ধাপে অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পুরস্কারের অর্থও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে বিদায় নেওয়া দলগুলো পেয়েছে ১২ মিলিয়ন, শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো ১৬ মিলিয়ন এবং কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়া দলগুলো ২০ মিলিয়ন ডলার করে পেয়েছে।
এ ছাড়া চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার, তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২৯ মিলিয়ন ডলার এবং রানার্সআপ দলের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৩ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে রেকর্ড ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্ব ফুটবলের এই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি শুধু শীর্ষ দলগুলোকেই নয়, বরং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবল উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



