আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাকার অপব্যবহার রোধে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সিদ্ধান্ত আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে এবং নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো এমএফএস সেবার মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (P2P) লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিবার সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে। একই সঙ্গে একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করতে পারবেন, যার মোট সীমা হবে ১০ হাজার টাকা। তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের সময় এমএফএস এবং ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের আওতাধীন আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের অপব্যবহার ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমএফএসে পিটুপি লেনদেন সীমিত থাকবে এবং লেনদেন ব্যতীত অন্যান্য বেশ কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে।
এ সময় ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যাংকের অ্যাপ বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানোর সুবিধা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। তবে অন্যান্য স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী চলবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময় এমএফএসের মাধ্যমে কোনো ধরনের আর্থিক অপরাধ সংঘটিত হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় জানাতে হবে। পাশাপাশি এমএফএস–সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ, দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য প্রতিটি এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব জরুরি রেসপন্স সেল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় সকল লেনদেন এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হবে। সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন চিহ্নিত হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এমএফএস প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোকে নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের কথাও বলা হয়েছে।

