ওইনড ব্যান্ডের ভোকালিস্ট, বেজিস্ট ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার এ কে রাতুল শেষ ঠিকানা পেয়েছেন তার বাবার পাশেই। সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে ঢাকার বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয় প্রয়াত চিত্রনায়ক জসীমের কবরেই। এই তথ্য নিশ্চিত করেন অর্থহীন ব্যান্ডের ম্যানেজার এহসানুল হক টিটু। তিনি জানান, রাতুল অর্থহীনের সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। দাফনের সময় পরিবারের সদস্য, স্বজন ও সংগীতাঙ্গনের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
রোববার (২৭ জুলাই) জিমে ব্যায়াম করার সময় হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন রাতুল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও পরে লুবানা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১৯৯৮ সালে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি খলনায়ক জসীম। তার তিন ছেলের মধ্যে রাতুল ছিলেন দ্বিতীয়—সানী, রাতুল ও রাহুল। বাবার মতো আলোচনায় না এলেও রাতুল নিজের মতো করে জায়গা করে নিয়েছিলেন দেশের সংগীতজগতে।
২০১৪ সালে ওয়িনড ব্যান্ডের মাধ্যমে নতুন ধারার সংগীত নিয়ে যাত্রা শুরু করেন রাতুল। একই বছর ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম ‘ওয়ান’ প্রকাশিত হয়, এরপর ২০১৭ সালে আসে দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘টু’। ব্যান্ডটি ধীরে ধীরে তরুণদের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
গায়ক, বেজিস্ট, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার ও সংগীত প্রযোজক—এই চারটি পরিচয়ে রাতুল ছিলেন সমান দক্ষ ও স্বীকৃত। অনেক খ্যাতনামা ব্যান্ডের অ্যালবামের সাউন্ড ডিজাইন করেছেন তিনি। বিশেষ করে অর্থহীনের ‘ফিনিক্সের ডায়েরি’ অ্যালবামের কারিগরি কাজ তারই হাতে করা।
রাতুলের অকালমৃত্যুতে দেশের সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, ভক্ত ও শ্রোতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন।



