আসিয়ান রিজিওনাল ফোরাম (ARF)-এর সাইডলাইনে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
একই দিনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। সেখানে বাণিজ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়।
এর আগে তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বেরিস একেনচির সঙ্গেও বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। ওই বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বিনিয়োগ, শিক্ষা এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
ধারাবাহিকভাবে চীন, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সক্রিয়তার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে পরিবর্তিত বাস্তবতার মধ্যে ঢাকা একাধিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ করার চেষ্টা করছে।
তবে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশ কি ধীরে ধীরে চীন–তুরস্ক বলয়ের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে? নাকি এটি কেবল বহুমাত্রিক কূটনীতিরই একটি অংশ?
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এই নীতিকে অনুসরণ করে আসছে। তাই চীন বা তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বাড়ানো মানেই পশ্চিমা দেশ বা অন্যান্য অংশীদারদের থেকে দূরে সরে যাওয়া নয়। বরং অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করাই ঢাকার প্রধান লক্ষ্য হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে একটি দেশের জন্য একাধিক শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগকে কৌশলগত সম্পর্ক বৈচিত্র্যকরণের প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক বৈঠকগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সক্রিয় ও বহুমুখী কূটনৈতিক ভূমিকা নিতে আগ্রহী। তবে এসব বৈঠক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে মৌলিক পরিবর্তনের সূচনা কিনা, নাকি এটি বিদ্যমান ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক কৌশলেরই ধারাবাহিকতা—তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে গৃহীত নীতি, চুক্তি এবং বাস্তব সহযোগিতার ওপর।



