বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের বহু পরিচিত তারকা একে একে পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশে। কেউ স্থায়ী হয়েছেন, কেউ পরিবার নিয়ে নতুন জীবনের পরিকল্পনা করছেন, আবার অনেকে বিদেশে থাকলেও মাঝেমধ্যে দেশে এসে কাজ করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তারকাদের এ বিদেশমুখী প্রবণতা যেন আরও স্পষ্টভাবে বেড়েছে।
অভিনেতা অমিত হাসান, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, মাহিয়া মাহি, সাজু খাদেমসহ বর্তমান সময়ের বহু শিল্পী ইতোমধ্যে বিদেশে স্থায়ী হওয়ার পথে হাঁটছেন বা স্থায়ী হয়েছেন। এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন চলচ্চিত্রশিল্পী সমিতির সভাপতি ও জনপ্রিয় অভিনেতা মিশা সওদাগর। তার দাবি, দেশে কাজ কমে যাওয়ার কারণেই শিল্পীরা বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
মিশা সওদাগরের নিজের পরিবারও যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী। তিনি নিজেও বছরের অর্ধেক সময় কাটান সেখানে। সম্প্রতি এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এসে তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত কাজ থাকলে কোনো শিল্পীই দেশ ছেড়ে যেতে চাইতেন না। তার ভাষায়, “কাজ না থাকলে শিল্পীদেরই বা করার আছে কী? একসময় দিনে চার-পাঁচটা সিনেমার কাজ করেছি। সকাল ৭টায় শুরু হয়ে রাত ২টা পর্যন্ত কাজ চলত। এখন সেই এফডিসি প্রায় বন্ধ। কাজের অভাবই শিল্পীদের বিদেশে যেতে বাধ্য করছে।”
তিনি উদাহরণ দেন তার বন্ধু অমিত হাসানসহ মৌসুমী, ইমন, আলেকজান্ডার বো—এমন অনেকের, যারা কাজের অভাব ও অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশে স্থায়ী হয়েছেন। মিশা আরও বলেন, “অভিনয় ছাড়া আমি তো কিছুই পারি না। যারা বিদেশে গেছে, তাদের দোষ দেওয়া ঠিক নয়। কাজ থাকলে তারা দেশেই থাকত।”
শিল্পীদের মতে, দেশের সিনেমার অবকাঠামো, কর্পোরেট বিনিয়োগের অভাব, নির্মাণের ধারাবাহিকতা না থাকা এবং কাজের অনিশ্চয়তা মিলেই তারা নতুন সম্ভাবনার সন্ধানে বিদেশমুখী হচ্ছেন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শোবিজ অঙ্গনের বাস্তবতাও বদলে যাচ্ছে—এটাই যেন তাদের সিদ্ধান্তের মূল কারণ।



