১৪ ফেব্রুয়ারি—ক্যালেন্ডারের হিসেবে একটি সাধারণ দিন, কিন্তু অনুভূতির দিক থেকে এটি অসাধারণ। বিশ্বজুড়ে দিনটি ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে পরিচিত। এ বছর এই দিনটি বাঙালির জীবনে এসেছে এক অনন্য দোলাচল নিয়ে—একদিকে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী সুর, অন্যদিকে হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা ভালোবাসার উচ্ছ্বাস। আনন্দের এই যুগলবন্দিতে যেমন রয়েছে উজ্জ্বল রঙের আবেশ, তেমনি কোথাও লুকিয়ে আছে হালকা বিষণ্নতার ছায়া, আবার একই সঙ্গে জাগ্রত হয়েছে নতুন আশার আলো।
শীতের কুয়াশা সরিয়ে ফাল্গুন আসে রঙিন উষ্ণতায়। বাতাসে লাগে এক অদৃশ্য কিশোরী কাঁপন, কৃষ্ণচূড়ার ডালে জ্বলে ওঠার প্রস্তুতি নেয় আগুনরঙা ফুল। প্রকৃতি যেন নিঃশব্দে শেখায়—শূন্যতার মধ্যেও জীবনের রঙ খুঁজে নিতে হয়। বসন্ত মানেই প্রেম, আবার বসন্ত মানেই স্মৃতি, অপেক্ষা আর বিরহের মিশেল। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় যখন বাসন্তী শাড়ি আর হলুদ পাঞ্জাবির রঙ ছড়িয়ে পড়ে, তখন ভিড়ের মাঝেও জেগে ওঠে না-বলা অনুভূতির গল্প। কারও কাছে এই দিন প্রাপ্তির আনন্দ, কারও কাছে অপূর্ণতার দীর্ঘশ্বাস; তবু শেষ পর্যন্ত মানুষ ভালোবাসাকেই বেছে নেয়। কারণ বিচ্ছেদ আছে বলেই মিলনের মূল্য এত গভীর।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, “আমার মুক্তি সর্বজনে, আমার মুক্তি আলোয় আলোয়।” ভালোবাসাও তেমনি কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ছড়িয়ে পড়ুক মানুষে মানুষে, সহমর্মিতায়, সহনশীলতায় এবং মানবিকতায়। বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের এই মিলনে আমরা যদি পুরনো কলহ, তিক্ততা ও না-পাওয়ার হিসাবগুলো ঝেড়ে ফেলতে পারি, তবে নতুন ঋতুর আগমন সত্যিই অর্থবহ হয়ে উঠবে।
ভালোবাসা প্রকাশেরও নির্দিষ্ট কোনো সীমানা নেই। এটি যেমন প্রিয় মানুষের জন্য, তেমনি বন্ধুত্বের বন্ধনে, একটি নিরীহ প্রাণীর প্রতি মমতায়, কিংবা সৃষ্টির সকল জীবের প্রতি দয়া ও সহানুভূতিতেও প্রকাশ পায়। ভালোবাসা মানে শুধু রোমান্টিক আবেগ নয়; এটি এক ধরনের দায়বদ্ধতা, এক ধরনের আলোকিত মানবিকতা।
এই বিশেষ দিনে ভালোবাসা পাক নতুন পূর্ণতা—মানুষের প্রতি, প্রকৃতির প্রতি, এবং স্রষ্টার সব সৃষ্টির প্রতি। বেঁচে থাকুক ভালোবাসার ছোট ছোট অনুভূতিগুলো; কারণ এই ক্ষুদ্র অনুভূতিগুলোর মাঝেই লুকিয়ে থাকে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্থ।



