বর্ণিল আয়োজনে পর্দা উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শীতকালীন ক্রীড়া আসর—শীতকালীন অলিম্পিক ২০২৬। কনকনে শীত আর তুষারপাতের মাঝেও ইতালির মিলান–কর্তিনায় অনুষ্ঠিত জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের উষ্ণতা। চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা, সংস্কৃতি ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে মুগ্ধ হয় বিশ্ববাসী। এবারের আসরে প্রথমবারের মতো একযোগে চারটি ভেন্যু থেকে উদ্বোধনী আয়োজন পরিচালিত হয়, যার মধ্যে দুই ভেন্যুতে প্রজ্বালিত হয় অলিম্পিক মশাল।
হিমেল হাওয়া আর তুষারঝরা সন্ধ্যায় মিলানের আকাশ রঙিন হয়ে ওঠে আতশবাজির ঝলকানিতে। গ্যালারি ঠাসা দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও করতালিতে শীতের রাত যেন পরিণত হয় এক নক্ষত্রখচিত উৎসবে। ইতালির ঐতিহ্য ও আধুনিকতার অনন্য সংমিশ্রণে শুরু হয় ক্রীড়া বিশ্বের এই মহাযজ্ঞ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল নজরকাড়া পারফরম্যান্স। ইতালির লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তুলে ধরে দেওয়া হয় ‘টেকসই ভবিষ্যৎ’–এর বার্তা। নামকরা পপ তারকাদের সংগীত পরিবেশনা ও শত শত নৃত্যশিল্পীর ছন্দময় পরিবেশনা দর্শকদের নিয়ে যায় এক স্বপ্নিল জগতে। ড্রোন শোর মাধ্যমে আকাশে অলিম্পিক রিং তৈরি করার দৃশ্য বিশেষভাবে মুগ্ধ করে সবাইকে।
অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন পাঁচবারের গ্র্যামি জয়ী পপ তারকা মারিয়া কেরি, ইতালিয়ান কিংবদন্তি টেনর আন্দ্রেয়া (আন্দ্রেয়া বোচেল্লি) এবং গোল্ডেন গ্লোব বিজয়ী লরা পাউসিনি। তাদের কণ্ঠে পরিবেশিত এবারের থিম সংয়ে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা আয়োজনজুড়ে।
এবারের অলিম্পিকে আরও একটি নতুনত্ব ছিল ভেন্যু ব্যবস্থাপনা। মূল ভেন্যু মিলানের সান সিরোর পাশাপাশি উদ্বোধনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় কর্তিনা, প্রেদাজ্জো ও লিভিগনোতেও। ভৌগোলিক দূরত্ব সত্ত্বেও সব ভেন্যুকে এক সুতোয় গেঁথে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন বাস্তবায়ন করেন আয়োজকরা।
মাঠের লড়াই শুরুর আগেই দর্শকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। স্টেডিয়াম ছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে বসানো জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা উপভোগ করতে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। মিলান–কর্তিনা অলিম্পিকে ৮টি মূল খেলায় মোট ১৬টি ডিসিপ্লিনে অনুষ্ঠিত হবে ১১৬টি ইভেন্ট। এবারের আসরে নতুন সংযোজন হিসেবে অভিষেক ঘটছে স্কি মাউন্টেনিয়ারিং ইভেন্টের।
উদ্বোধনী প্যারেডে অংশ নেয় ৯১টি দেশের হাজারো অ্যাথলেট। নিজ নিজ দেশের পতাকা হাতে গর্বিত পদচারণায় তারা জানান দেন বরফের বুকে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের প্রস্তুতির কথা। বৈশ্বিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন ভুলে খেলাধুলার এই মহামিলনমেলা আবারও প্রমাণ করল—শান্তি, ঐক্য আর সংহতির আরেক নাম অলিম্পিক।



