ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার পর কোচিং ক্যারিয়ার গড়ার পথে এগোচ্ছেন দেশের একসময়ের আলোচিত ব্যাটার মোহাম্মদ আশরাফুল। সম্প্রতি তিনি বরিশাল বিভাগের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) ও অন্যান্য আঞ্চলিক টুর্নামেন্টে বরিশাল দলের কোচের ভূমিকা পালন করবেন তিনি।
এর আগে বিপিএলের দল রংপুর রাইডার্সে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন আশরাফুল। এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আঞ্চলিক ক্রিকেট উন্নয়নের অংশ হিসেবে বরিশাল বিভাগের দলকে নতুনভাবে গুছিয়ে তোলার দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান আশরাফুলের কোচ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আশরাফুল বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার ছিলেন এবং কোচিংয়ে তার আগ্রহ রয়েছে। যেহেতু তিনি বরিশালের হয়ে অতীতে খেলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি তার অভিজ্ঞতা দলকে সহায়তা করবে।”
আকরাম খান আরও জানান, সাবেক ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ, সালাউদ্দিন সেলিম, হান্নান সরকার ও আল শাহরিয়ার রোকনদের সাথেও আলাপ চলছে—তাদের ভবিষ্যতে জাতীয় লিগ ও অন্যান্য টুর্নামেন্টে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বরিশালের ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের মধ্যে অসন্তোষ ও দ্বন্দ্ব নিয়েও বিসিবি চিন্তিত। আকরাম খান বলেন, “কেউ ম্যানেজার খুশি না, কেউ কোচ বা অধিনায়ক খুশি না—এমন বিভাজন বরিশালে বেশি দেখা যায়, যা অন্য বিভাগে তেমন হয় না। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, সব বিভাগীয় ম্যানেজারদের গাইডলাইন দেওয়া হবে এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে তাদের আর রাখা হবে না।
আঞ্চলিক ক্রিকেটের প্রসার ঘটাতে বিসিবি চট্টগ্রামে রিজিওনাল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে, যা শুরু হবে ২৭ আগস্ট। এতে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলা অংশ নেবে। এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসলে তারা জাতীয় পর্যায়ে চট্টগ্রামের হয়ে খেলতে পারবে। বোর্ড সভাপতির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আঞ্চলিক কাঠামো শক্তিশালী করাই মূল লক্ষ্য।
মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বে বরিশাল বিভাগের ক্রিকেটে নতুন আলো দেখা যাবে বলে আশা করছে বিসিবি। পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বোর্ডের এসব পদক্ষেপ দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।



