ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া এই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের মুখোমুখি হবে সবচেয়ে দৃঢ় রক্ষণভাগগুলোর একটি। এখন পর্যন্ত ১৬ গোল করা ফ্রান্সের ‘ফ্যাব ফোর’ আক্রমণভাগের বিপক্ষে পরীক্ষা দিতে হবে পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করা স্পেনকে।
কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে এবং দেসিরে দুয়ে বা ব্র্যাডলি বারকোলাকে নিয়ে গড়া ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছে স্পেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিপক্ষকে রক্ষণে ব্যস্ত রাখার জন্য বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখাই হবে লা রোজাদের প্রধান কৌশল। স্পেনের উইঙ্গার আলেক্স বায়েনা জানিয়েছেন, ফ্রান্সের আক্রমণশক্তির প্রতি তাদের পূর্ণ সম্মান রয়েছে, তবে ম্যাচে তারা এমন ফুটবল খেলতে চায় যাতে ফরাসিরাই স্পেনকে নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকে।
বায়েনা বলেন, ফ্রান্সের সামনের চারজন খেলোয়াড় দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন এবং তাদের ওপর বিশেষ নজর রাখতে হবে। তবে একই সঙ্গে স্পেন চাইবে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে, বলের দখল ধরে রাখতে এবং প্রতিপক্ষকে যত কম সুযোগ দেওয়া যায়। তার মতে, বেশি সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ফ্রান্সের আক্রমণভাগও স্বাভাবিকভাবে কম কার্যকর হয়ে উঠবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও উয়েফা নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারানোর সময়ও স্পেন একই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করেছিল। তবে অতীতের সাফল্যকে গুরুত্ব না দিয়ে বর্তমান ম্যাচের বাস্তবতার ওপরই জোর দিচ্ছেন স্প্যানিশরা। বায়েনা মনে করিয়ে দিয়েছেন, প্রতিটি ম্যাচই আলাদা এবং ফ্রান্স এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করছে।
সেমিফাইনালের আগে আলোচনায় রয়েছে স্পেনের দীর্ঘ ভ্রমণসূচিও। গ্রুপ পর্বে টেনেসির চ্যাটানুগায় ক্যাম্প করার পর বিভিন্ন টাইম জোনে একাধিক ম্যাচ খেলতে হয়েছে তাদের। বিপরীতে ফ্রান্স পুরো টুর্নামেন্টে তুলনামূলক কম ভ্রমণ করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্সের তুলনায় প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার বেশি পথ অতিক্রম করেছে স্পেন।
তবে স্পেনের ফুলব্যাক পেদ্রো পোর্দো মনে করেন, বড় ম্যাচের আগে ভ্রমণের বিষয়টি অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, খেলোয়াড়রা নিয়মিত ভ্রমণের মধ্যেই থাকে এবং এই সেমিফাইনালের জন্য দল মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত। যদিও বায়েনা স্বীকার করেছেন যে অতিরিক্ত ভ্রমণের কারণে কিছুটা ক্লান্তি রয়েছে, তবুও বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে লড়াই করার জন্য পুরো দল উজ্জীবিত এবং আত্মবিশ্বাসী।
স্পেন শিবিরের বিশ্বাস, ফ্রান্সের বিপক্ষে এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে ছোট ছোট মুহূর্ত, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা। তাই ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সেমিফাইনাল যে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হতে যাচ্ছে, তা বলাই যায়।



