টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ মানেই কোটি টাকার খেলা, ঝলমলে তারকারা এবং রোমাঞ্চকর ম্যাচের আনন্দঘন উৎসব। এই দুনিয়ায় শীর্ষে অবস্থান করছে ভারতের আইপিএল, পাকিস্তানের পিএসএল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএলটি২০, ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেড, ক্যারিবীয় সিপিএল, দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ। সম্প্রতি বিবিসি ও ক্রিকেট পরিসংখ্যানভিত্তিক সংস্থা ‘ক্রিকভিজ’ এই সাতটি লিগকে তাদের তালিকায় স্থান দিয়েছে। কিন্তু সেই তালিকায় নেই বাংলাদেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট—বিপিএল। এটি নিঃসন্দেহে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য হতাশাজনক সংবাদ।
তালিকায় জায়গা করে নিতে বিবিসি যেসব মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়েছে তার মধ্যে ছিল প্রতি ম্যাচে চার-ছক্কার গড় সংখ্যা, শেষ ওভারের উত্তেজনা, ডট বলের হার, ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ এবং বোলারদের কার্যকারিতা। এইসব জায়গায় বিপিএলের পারফরম্যান্স খুবই গড়পড়তা।
বিশ্লেষকদের মতে, বিপিএলের পিছিয়ে পড়ার কারণগুলো হলো—আন্তর্জাতিক তারকা খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে অনীহা, স্পন্সরদের আগ্রহের অভাব, পর্যাপ্ত বাজেট ও বিনিয়োগ সংকট, সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনার ঘাটতি। অন্যদিকে, আইপিএল ও পিএসএলের মতো লিগগুলোতে দেখা যায় পূর্ণ গ্যালারি, মানসম্পন্ন সম্প্রচার ও সুপরিকল্পিত আয়োজন। বিপরীতে, বিপিএলের মাঠে প্রায়ই থাকে দর্শকশূন্যতা, সম্প্রচারে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং এক মৌসুম শেষ না হতেই পরের আসর নিয়ে অনিশ্চয়তা।
তবুও, বিপিএলের সম্ভাবনা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। দেশের ক্রিকেটভক্তদের আগ্রহ ও আবেগ এখনো এই টুর্নামেন্টের বড় শক্তি। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিপিএল আবারও সেই উচ্চতায় ফিরে যেতে পারে, যেখানে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে। তবে এর জন্য দরকার—আন্তর্জাতিক মানের সম্প্রচার ও ব্র্যান্ডিং, নির্ভরযোগ্য স্পন্সরশিপ, সময়মতো পারিশ্রমিক প্রদান, নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসরণ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বিসিবির পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্বশীল ভূমিকা। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—এই ঘুরে দাঁড়ানোর উদ্যোগ কে নেবে?



