দশকের পর দশক ধরে আমরা শুনে আসছি যে, শোবার আগে ফোন বা ল্যাপটপের নীল আলো আমাদের ঘুমের প্রধান শত্রু। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, আসল অপরাধী হয়তো এই নীল আলো নয়, বরং অন্য কিছু। ২০১৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল আইপ্যাড ব্যবহারকারীদের ঘুম আসতে দেরি হয় ও মেলাটোনিন কম তৈরি হয়। কিন্তু স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেমি জেইটজার সেই গবেষণাকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলেছেন। তার মতে, ল্যাবরেটরির কৃত্রিম পরিবেশের ফল বাস্তব জীবনে তেমন নয়। আমাদের চোখের ‘মেলানোপসিন’ নামক প্রোটিন নীল আলোর প্রতি সংবেদনশীল ঠিকই, কিন্তু ফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত আলোর পরিমাণ ঘুমের ওপর বড় প্রভাব ফেলার মতো যথেষ্ট নয়। ১১টি গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফোনের আলো সবচেয়ে বেশি ঘুমকে মাত্র ৯ মিনিট দেরি করাতে পারে। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, রোদে এক মিনিটে আমরা যত নীল আলো পাই, ফোন থেকে তা পেতে টানা ২৪ ঘণ্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। আসল সমস্যা হলো শোবার আগে ফোনে আপনি কী দেখছেন বা করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রোল করা বা উত্তেজনাপূর্ণ ভিডিও মস্তিষ্ককে সজাগ করে তোলে, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। ভালো ঘুমের জন্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন: সকালে পর্যাপ্ত উজ্জ্বল আলোর সংস্পর্শে থাকা, বিকেলে অন্তত ৩০ মিনিট বাইরে হাঁটা, এবং দিনের বেলা ঘর উজ্জ্বল ও রাতে আলো কমিয়ে রাখা। রাতে মোমবাতি বা মৃদু আলো মনস্তাত্ত্বিক সংকেত হিসেবে কাজ করে, যা মস্তিষ্ককে ঘুমের প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করে। পরিশেষে, ফোনের নীল আলোকে দোষ না দিয়ে দৈনন্দিন অভ্যাস ও শোবার আগের আচরণ পরিবর্তন করাই সুনিদ্রার আসল চাবিকাঠি।



