শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। এটি আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষকে সজীব রাখে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, হজমে সহায়তা করে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করে দেয়। কিন্তু সবসময়ই পানি খাওয়ার সঠিক সময় জানা জরুরি। বিশেষ করে, ফল খাওয়ার পর পানি পান করার অভ্যাস আমাদের অজান্তেই শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
ফল খাওয়ার ঠিক পরে পানি খেলে বেশ কয়েকটি সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রথমত, কিছু ফল যেমন কিউই, কাঁঠাল, পেয়ারা বা প্যাশন ফ্রুটে প্রাকৃতিক চিনি ও ইস্ট থাকে। পানি খেলে পাকস্থলীর অ্যাসিড পাতলা হয়ে এই ইস্টের বৃদ্ধি ঘটে, ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অ্যালকোহল তৈরি হয়। এর ফলে পেটে গ্যাস জমে গিয়ে পেট ফাঁপা ও ব্যথা হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, পানি খাওয়ার কারণে পাকস্থলীর অ্যাসিড-ক্ষার (pH) ভারসাম্য নষ্ট হয়ে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে তরমুজের মতো পানিসমৃদ্ধ ফল খাওয়ার পরপরই পানি খাওয়া এই ভারসাম্যকে আরও বিঘ্নিত করে। USDA অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম তরমুজে প্রায় ৯১.৪ গ্রাম পানি থাকে, যা অতিরিক্ত পানির সঙ্গে মিলে পাকস্থলীর স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায়।
তৃতীয়ত, ফল খাওয়ার পর পানি পান করলে হজমে সহায়ক এনজাইম ও গ্যাস্ট্রিক রস পাতলা হয়ে যায়। এর ফলে হজমের গতি কমে যায়, বুক জ্বালাপোড়া বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় হজম না হওয়া খাবার শরীরে চর্বিতে পরিণত হয় এবং ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়িয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষ করে টকজাতীয় ফল বা অতিরিক্ত পানিযুক্ত ফল (যেমন: তরমুজ, শশা, কমলা, স্ট্রবেরি) খাওয়ার পরপরই পানি খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত। ফল খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর পানি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত না হয় এবং শরীরে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
তাই, সুস্থ থাকার জন্য শুধু পানি পান নয়, কখন পানি পান করছেন—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে পানি পান করলে হজম, রক্তচাপ ও বিপাকক্রিয়া সবই সুস্থ থাকবে।



