কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক যত গভীর হচ্ছে, ততই প্রযুক্তি ঢুকে পড়ছে ব্যক্তিগত জীবনের গোপন স্তরে। আর সেই প্রযুক্তিই যে কখনো কখনো অপ্রত্যাশিত সত্য সামনে এনে দিতে পারে, তারই এক চাঞ্চল্যকর উদাহরণ সামনে এসেছে সম্প্রতি। চ্যাটজিপিটির একটি উত্তরে প্রকাশ্যে এসেছে এক তরুণীর প্রেমিকের গোপন জীবন—তিনি বিবাহিত এবং সন্তানের বাবা।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন একজন ডেটিং কোচ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ডেটিং কোচ ব্লেন অ্যান্ডারসন জানান, ২৭ বছর বয়সী এক তরুণীর প্রেমিক ছিলেন চল্লিশের শেষ কোঠার একজন পুরুষ, যিনি চ্যাটজিপিটির প্রতি অস্বাভাবিকভাবে আসক্ত ছিলেন। বলা চলে, তার দৈনন্দিন জীবনযাপনই ছিল এআই-নির্ভর। ডেটে বেরিয়েও প্রেমিকার সঙ্গে সময় কাটানোর বদলে তিনি প্রায় সারাক্ষণ চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথনে মগ্ন থাকতেন।
ডেট চলাকালে ককটেলের ইতিহাস থেকে শুরু করে নানা অজানা বিষয় নিয়ে চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করতেন ওই ব্যক্তি এবং প্রাপ্ত উত্তরগুলো জোরে জোরে পড়ে শোনাতেন প্রেমিকাকে। একপর্যায়ে রাত গভীর হলে বিরক্ত হয়ে তরুণী তাকে ফোন সরিয়ে মনোযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন। তখন মজা করেই প্রেমিক বলেন, ‘চ্যাটজিপিটি আর আমি খুব ভালো বন্ধু। তুমি বরং আমার সম্পর্কে যা খুশি জিজ্ঞেস করো।’
প্রেমিকের কথামতোই তরুণী চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করেন, ‘আমাকে এমন কিছু বলো, যা তুমি অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবে না। আর আমার কোন বিষয়টা তোমার সত্যিই ভালো লাগে?’ উত্তরে চ্যাটজিপিটি জানায়, ‘আমার সবচেয়ে ভালো লাগে, আপনি আপনার স্ত্রীর প্রতি যত্নশীল একজন স্বামী এবং আপনার সন্তানদের কাছে একজন স্নেহশীল বাবা।’ এই এক উত্তরেই মুহূর্তে সব পরিষ্কার হয়ে যায়।
চ্যাটজিপিটির উত্তরে প্রেমিকার সামনে পুরোপুরি ফাঁস হয়ে যায় প্রেমিকের গোপন জীবন। বিবাহিত হওয়া ও সন্তানের বাবা হওয়ার সত্য প্রকাশ পাওয়ায় চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন ওই ব্যক্তি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় পোস্টটি।
নেটিজেনদের একাংশ মন্তব্য করেছেন, ওই ব্যক্তি কতটা একাকিত্বে ভুগছিলেন যে নিজের জীবনের সব তথ্য চ্যাটজিপিটির কাছে শেয়ার করেছিলেন। আবার অনেকেই মনে করছেন, প্রতারণামূলক সম্পর্কের মুখোশ খুলে দিতে চ্যাটজিপিটি ভবিষ্যতে কার্যকর এক ‘ডিজিটাল আয়না’ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন



