প্রতিটি সম্পর্কেই মান-অভিমান একটি স্বাভাবিক বিষয়। যাদের আমরা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, তাদের সঙ্গেই আবেগের জায়গা থেকে ভুল বোঝাবুঝি হয় বেশি। কখনো না বুঝে বলা কথা, কখনো অনিচ্ছাকৃত আচরণ প্রিয় মানুষটিকে কষ্ট দিতে পারে। সেই কষ্ট থেকেই জন্ম নেয় অভিমান। কিন্তু প্রিয়জন যদি হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যায় বা কথা বলা বন্ধ করে দেয়, তখন দূরে সরে না গিয়ে বরং একটু চেষ্টা করলেই আবার ফিরিয়ে আনা যায় সম্পর্কের উষ্ণতা।
সবার আগে বোঝার চেষ্টা করুন, ঠিক কোন কারণে সে কষ্ট পেয়েছে। তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে শুনুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন। অনেক সময় সমস্যার মূলটা না বুঝলে অভিমান আরও গভীর হয়। তাই তার কথা মন দিয়ে শুনুন, তার কষ্টকে ছোট করে দেখবেন না। নিজের দিক থেকেও অহংকার না করে সম্পর্কটা ঠিক করার মানসিকতা রাখুন।
কে ঠিক আর কে ভুল—এই হিসাব পরে করা যাবে। আগে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে নিন। একটি ছোট্ট ‘সরি’ অনেক বড় দূরত্ব কমিয়ে দিতে পারে। ক্ষমা চাওয়া মানে নিজেকে ছোট করা নয়, বরং সম্পর্ককে বড় করে তোলা। আপনি আগ বাড়িয়ে মাফ চাইলে প্রিয় মানুষটির মন স্বাভাবিকভাবেই নরম হয়ে আসবে।
প্রিয়জনের পছন্দের ছোট কোনো উপহার অভিমান ভাঙাতে দারুণ কাজ করে। সেটা চকলেট হোক, ফুল হোক কিংবা তার পছন্দের কোনো ছোট জিনিস—এতে সে বুঝবে, আপনি এখনো তাকে গুরুত্ব দেন এবং তার কথা ভাবেন। এই যত্নই অনেক সময় অভিমান গলিয়ে দেয়।
তার জন্য নিজ হাতে প্রিয় কোনো খাবার রান্না করেও অভিমান ভাঙানো যায়। খুব ভালো রান্না জানা না থাকলেও চেষ্টা করাটাই আসল বিষয়। এই চেষ্টা ভালোবাসারই প্রকাশ, যা প্রিয় মানুষের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়।
সবশেষে, এমন কিছু করুন যাতে তার মুখে হাসি ফোটে। একটি মজার কথা, একটি আলিঙ্গন, কপালে একটি চুমু কিংবা পুরোনো কোনো সুখের স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়া—যে কাজগুলোতে সে আগে খুশি হতো, সেগুলো আবার করুন। দেখবেন, ধীরে ধীরে তার অভিমান গলে যাচ্ছে।
প্রিয় মানুষের অভিমান মানে সে আপনাকে গুরুত্ব দেয়, আপনাকে নিয়ে ভাবেন। তাই সেই সম্পর্কটাকে অবহেলা না করে যত্নে আগলে রাখুন। ভুল হলে স্বীকার করুন, পাশে থাকুন আর ভালোবাসা দিয়েই জিতে নিন প্রিয় মানুষের মন।



