মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে আটকে পড়া প্রবাসী ও পর্যটকদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। সাম্প্রতিক ইরান–কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে যারা নির্ধারিত সময়ে দেশ ছাড়তে পারেননি বা যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের জন্য ৩০ দিনের বিশেষ সময়সীমা বাড়ানো এবং জরিমানা মওকুফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছে Federal Authority for Identity, Citizenship, Customs and Ports Security। সংস্থাটি জানিয়েছে, অনিচ্ছাকৃতভাবে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করা পর্যটক ও প্রবাসীদের বিরুদ্ধে কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে উত্তেজনার কারণে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অনেক প্রবাসী বড় ধরনের সংকটে পড়েছিলেন। বিশেষ করে যাদের রেসিডেন্সি ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের জন্য পুনরায় প্রবেশের বিশেষ অনুমতির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এছাড়া যারা ভিজিট বা ট্যুরিস্ট ভিসায় আমিরাতে এসে সংকটের কারণে আটকা পড়েছেন এবং যাদের ভিসার মেয়াদ এ সময়ের মধ্যে শেষ হয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা হাজারো বিদেশি নাগরিকের দুশ্চিন্তা কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আটকে পড়া বিদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরার পথ সহজ করতে প্রশাসন বিনামূল্যে এক্সিট পারমিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আকাশপথ স্বাভাবিক হলে তারা কোনো জটিলতা ছাড়াই নিজ দেশে ফিরতে পারবেন। একই সঙ্গে আকাশপথ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে কোনো বিদেশি নাগরিকের ফ্লাইট জরুরি ভিত্তিতে আমিরাতে অবতরণ করতে বাধ্য হলে তাদেরও বিনামূল্যে সাময়িক অবতরণ অনুমতি দেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, এই বিশেষ পরিস্থিতিতে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা এক্সিট পারমিটের জন্য সময়মতো আবেদন করতে না পারাকে অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে না। এই সুবিধা মূলত তাদের জন্য প্রযোজ্য, যারা পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ডিপারচার পারমিটধারী, ভিজিট ও ট্যুরিস্ট ভিসাধারী এবং যাদের রেসিডেন্সি পারমিট সম্প্রতি বাতিল হয়েছে।
আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য যাত্রীদের বৈধ পাসপোর্ট, বর্তমান ভিসার কপি এবং পরবর্তী যাত্রার প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। Dubaiসহ আমিরাতের বিভিন্ন শহরে অবস্থানরত প্রবাসীরা এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন সাপেক্ষে ভ্রমণকারীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সর্বশেষ নির্দেশনা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



