ডিমকে বলা হয় প্রকৃতির ‘মাল্টিভিটামিন’। ডিমে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন, কোলিন, ভিটামিন বি-১২ এবং লুটেইনের মতো উপাদান আমাদের মস্তিষ্ক, চোখ ও লিভারের সুরক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত শরীরচর্চা বা জিম করেন, তাদের পেশি গঠনে ডিমের কোনো বিকল্প নেই। তবে প্রতিদিন ৪টি করে ডিম খাওয়া সবার জন্য সমান উপকারী নাও হতে পারে। শরীরের অবস্থা ভেদে এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
অতিরিক্ত ডিম পানে শারীরিক উপকারিতা: নিয়মিত ৪টি ডিম খেলে শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন সরবরাহ নিশ্চিত হয়, যা মাংসপেশি মেরামত ও শক্তি সঞ্চয়ে সাহায্য করে। এতে থাকা কোলিন স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং লিভারের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে সহায়ক। এছাড়া ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম হাড়ের স্বাস্থ্য মজবুত করে এবং লুটেইন চোখের রেটিনা রক্ষা করে দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে। ডিম দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে বলে ওজন কমাতেও এটি বেশ কার্যকর। বিশেষ করে অ্যাথলেট বা যারা কঠোর পরিশ্রম করেন, তাদের জন্য ৪টি ডিম প্রোটিনের একটি নিরাপদ ও প্রাকৃতিক উৎস হতে পারে।
সতর্কতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: উপকারিতা থাকলেও অতিরিক্ত ডিম খাওয়ার কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে। যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৪টি ডিমের কুসুম হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ কিডনি রোগীদের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে একাধিক ডিম খেলে গ্যাস, অম্বল বা হজমের সমস্যা হতে পারে। রান্নার পদ্ধতির ওপরও এর গুণাগুণ নির্ভর করে; অতিরিক্ত তেল বা মাখনে ভাজা ডিম শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: যাদের হৃদরোগের ইতিহাস আছে, ডিমে অ্যালার্জি রয়েছে কিংবা যারা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য প্রতিদিন ৪টি ডিম খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে সুস্থ ব্যক্তি এবং যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তারা কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ডিমের এই পুষ্টি গ্রহণ করতে পারেন। নিজের শরীরের চাহিদা এবং লিপিড প্রোফাইল বুঝে ডিমের সংখ্যা নির্ধারণ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।



