মাথাব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও যখন ব্যথা অত্যন্ত তীব্র হয়, তখন তা দৈনন্দিন কাজকর্মে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে। ঘন ঘন বা তীব্র মাথাব্যথা শুধু অস্বস্তিকরই নয়, অনেক সময় এটি শরীরের আরও গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। তবে কিছু সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি রয়েছে, যা মেনে চললে দ্রুত মাথাব্যথা কমানো সম্ভব।
প্রথমেই পর্যাপ্ত পানি পান করা খুব জরুরি, কারণ ডিহাইড্রেশন অনেক সময় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ব্যথা শুরু হলে বড় একটি গ্লাস পানি পান করুন এবং সারা দিন পর্যাপ্ত পানি পান বজায় রাখুন। অনিদ্রা, ঘুমের ঘাটতি বা অতিরিক্ত মানসিক চাপও মাথাব্যথা বাড়ায়, তাই সম্ভব হলে অন্ধকার ও শান্ত ঘরে কিছুক্ষণ ঘুমানো বা বিশ্রাম নেওয়া উপকারী।
ঠান্ডা বা গরম সেঁকও মাথাব্যথা কমাতে কার্যকর। কপাল বা মাথার পেছনে ঠান্ডা সেঁক দিলে ব্যথা কমে, আর টেনশন হেডেকের ক্ষেত্রে গরম সেঁক ভালো কাজ করে। মাঝেমধ্যে কম পরিমাণে ক্যাফেইন গ্রহণ, যেমন চা বা কফি, রক্তনালি সংকুচিত করে মাথাব্যথা লাঘব করতে পারে—তবে মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইন উল্টো ক্ষতি করতে পারে।
তাজা বাতাস গ্রহণ ও গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন শরীর ও মনকে স্বস্তি দেয় এবং মাথাব্যথা কমাতে সাহায্য করে। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা চোখের চাপ বাড়ায়, যা মাথাব্যথার কারণ হতে পারে, তাই স্ক্রিন টাইম কমানো এবং প্রতি ২০ মিনিটে কিছুক্ষণের জন্য চোখকে বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন।
মাথা, ঘাড় ও কাঁধে হালকা মালিশ রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং টেনশনজনিত মাথাব্যথা কমাতে সহায়তা করে। পুদিনা তেল কপালে লাগানো, লবঙ্গের গুঁড়োর গন্ধ নেওয়া বা আদা চা পান করাও প্রাকৃতিকভাবে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
ঘরোয়া উপায় কাজ না করলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে মাথাব্যথা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, ঘন ঘন দেখা দেয়, বা এর সাথে বমি, ঝাপসা দৃষ্টি, দুর্বলতা বা কথা বলতে সমস্যা দেখা যায়, তাহলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সাধারণ মাথাব্যথাকে অবহেলা করলে ভবিষ্যতে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই সতর্ক থাকা, নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা মাথাব্যথা প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখে।


