বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও জমকালো আয়োজনগুলোর একটি হলো ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের সুরম্য শহর কানে অনুষ্ঠিত কান চলচ্চিত্র উৎসব (Cannes Film Festival)। আগামী ১২ মে ২০২৬ থেকে দক্ষিণ ফ্রান্সের কান শহরে শুরু হতে যাওয়া এই উৎসবের ৭৯তম আসরের উদ্বোধনী রজনীতে গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে বিশ্ব প্রিমিয়ারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ফরাসি নির্মাতা পিয়েরে সালভাদোরি (Pierre Salvadori) পরিচালিত নতুন চলচ্চিত্র ‘লা ভেনাস ইলেকট্রিক’ (La Vénus électrique)। এই সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনীর মাধ্যমেই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে, আর প্রতিবারের মতো এবারও কানের ঐতিহাসিক লাল গালিচায় বিশ্ববরেণ্য সব অভিনয়শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকছেন মালিয়ান বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় ফরাসি অভিনেত্রী আই হাইদারা (Eye Haïdara), যিনি ফরাসি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নাটকে শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য দীর্ঘকাল ধরে সুপরিচিত। এই জমকালো উদ্বোধন এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পুরো আয়োজনটি ফ্রান্স টেলিভিশন ও ব্রুট (Brut) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে, যা বিশ্বজুড়ে লাখো সিনেমাপ্রেমী উপভোগ করতে পারবেন। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, উদ্বোধনী প্রদর্শনী শেষে একই দিনে সিনেমাটি ফ্রান্সের বিভিন্ন সাধারণ প্রেক্ষাগৃহেও মুক্তি পাবে, যাতে সাধারণ দর্শকরাও উৎসবের আমেজ থেকে বিচ্ছিন্ন না হন।
পরিচালক পিয়েরে সালভাদোরি তাঁর পূর্ববর্তী চলচ্চিত্রগুলোতে স্বতন্ত্র হাস্যরস, হালকা আবহ এবং মানবিক সম্পর্কের গভীরতা ফুটিয়ে তোলার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। তাঁর নতুন সৃষ্টি ‘লা ভেনাস ইলেকট্রিক’-এ তিনি ১৯২৮ সালের ঐতিহাসিক প্যারিসকে পটভূমি হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এটি মূলত একটি রোমান্টিক ও ব্যঙ্গাত্মক কাহিনীর চলচ্চিত্র, যেখানে মানুষের মিথ্যাচার, তীব্র আবেগ, ভাঙা সম্পর্ক এবং পুনর্মিলনের নানা জটিল সমীকরণ তুলে ধরা হয়েছে। ১৯২০-এর দশকের ধ্রুপদী আবহ, ভিনটেজ পোশাক, ঐতিহাসিক স্থাপত্য আর আধুনিক নির্মাণশৈলীর মেলবন্ধনে চলচ্চিত্রটি এক অনন্য শৈল্পিক রূপ লাভ করেছে। সিনেমার কাহিনী আবর্তিত হয়েছে একজন তরুণ চিত্রশিল্পীকে কেন্দ্র করে, যিনি তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীর মৃত্যুর পর মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জিত সৃজনশীলতা ও প্রেরণা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেন। এক অদ্ভুত ও রহস্যময় ঘটনার মধ্য দিয়ে তাঁর জীবনে এক নতুন নারীর আগমন ঘটে। সেই নারীটি শুরুতে প্রবঞ্চনা ও সুকৌশলে চিত্রশিল্পীর জীবন ও সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলেও গল্পের শেষ ভাগে নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। প্রতারণার উদ্দেশ্য নিয়েই আসা সেই নারী শেষ পর্যন্ত চিত্রশিল্পীর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসায় নিমগ্ন হন এবং তাঁকে পুনরায় সৃষ্টিশীলতার জগতে ফিরিয়ে আনেন। মানবিক অনুভূতির এমন দ্বান্দ্বিক ও স্পর্শকাতর উপস্থাপন, সঙ্গে ঔপনিবেশিক প্যারিসের নান্দনিক দৃশ্যায়ন ইতিমধ্যে চলচ্চিত্র সমালোচক ও আন্তর্জাতিক দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি করেছে। কানের এই উদ্বোধনী প্রদর্শনী বিশ্ব চলচ্চিত্রের বাজারে সিনেমাটির বাণিজ্যিক ও শৈল্পিক যাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ কান উৎসবের মর্যাদাপূর্ণ আসরে জায়গা পাওয়াটাই যেকোনো চলচ্চিত্রের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বাণিজ্যিক সাফল্যের দ্বার উন্মোচন করে।



