খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার হাতিয়াপাড়া এলাকায় এক কৃষকের আঙিনায় গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগির পাশাপাশি চোখে পড়ে এক টুকরো ঢালু জমিতে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা লাল-সবুজ রঙের রাম্বুটান। পাহাড়ি মাটিতে এই বিদেশি ও উচ্চমূল্যের ফলের সাফল্য স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কৌতূহলী মানুষ প্রতিদিন ভিড় করছেন বাগানটি দেখতে।
এই রাম্বুটান বাগান গড়ে তুলেছেন কৃষক রফিকুল ইসলাম। ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (IDF), পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (PKSF) এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহায়তায় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ‘উচ্চমূল্যের ফল ফসলের জাত সম্প্রসারণ ও বাজারজাতকরণ শীর্ষক প্রকল্প (RMTP)’-এর আওতায় রফিকুলকে ৩০টি ভিয়েতনামি জাতের রাম্বুটান চারা সরবরাহ করা হয়।
মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে রফিকুলের বাগানে আসে আশাজাগানিয়া সাফল্য। ১২টি গাছে ফল এসেছে। পাকা ফলগুলো লালচে রঙের ও দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। স্বাদে মিষ্টি এবং অনেকটা লিচুর মতো, যা স্থানীয় বাজারে ইতোমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতি কেজি রাম্বুটান বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা দরে। এছাড়া রফিকুল নিজেই বাগানের গাছ থেকে ২০০টি কলম তৈরি করেছেন, যেগুলো তিনি বিক্রি করতে চান প্রতিটি ১২০০ টাকা দরে।
রফিকুল ইসলাম জানান, প্রথমে লেবুর চারা দেওয়ার কথা থাকলেও রাম্বুটান চাষের ভিডিও দেখে আগ্রহী হয়ে আইডিএফ কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ করেন রাম্বুটান চারা পাওয়ার জন্য। চারা পেয়ে নিজের মতো করে অনেক যত্নে গাছগুলো বড় করেছেন। কেউ কেউ তাকে ‘পাগল’ বললেও তিনি দমে যাননি। এখন তিনি এই ফল বিক্রি করে নিজেই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন।
মাটিরাঙ্গা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ চাকমা বলেন, “প্রথম থেকেই আমরা রফিকুল ইসলামকে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছি। রাম্বুটান চাষে ঝুঁকি কম, ফলন ভালো এবং বাজারমূল্য বেশি। আশা করছি, পাহাড়ে এই ফল চাষ আরও প্রসারিত হবে।”
আইডিএফ-এর কৃষিবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া রাম্বুটান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এই প্রকল্পের আওতায় আমরা শুধু রাম্বুটান নয়, অ্যাভোকাডো, খেজুর, সিডলেস লেবু, কাজুবাদাম, গৌরমতি আম, কপি ও ভ্যানিলাসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের ফলের চারা বিতরণ করেছি।”
মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সবুজ আলী বলেন, “রফিকুল ইসলামের এই সফলতা আমাদের গর্বের বিষয়। তার উদাহরণ দেখে আরও অনেক কৃষক উৎসাহিত হবেন। এটি প্রমাণ করে, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সঠিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলেও কৃষির নতুন দিগন্ত উন্মোচন সম্ভব।”



