বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছিলেন এক যুবক। একটি ঘটকালি ওয়েবসাইটে পরিচয়ের মাধ্যমে পছন্দ হয়েছিল এক তরুণীকে। এরপর সিদ্ধান্ত নেন সামনাসামনি দেখা করে বিস্তারিতভাবে একে অন্যকে জানবেন। সব ঠিক থাকলে পাত্রীকেই জীবনসঙ্গিনী করবেন—এই ছিল পরিকল্পনা।
তবে বাস্তবে ঘটল এক চমকপ্রদ ঘটনা। নির্ধারিত দিনে যুবকটি রেস্তোরাঁয় পাত্রী জিয়া সিংহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শুরুতে কথাবার্তা, এরপর আসে চা। চা খাওয়ার পর যুবক হঠাৎ বেহুঁশ হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরে দেখেন, তার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ উধাও! তৎক্ষণাৎ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার নিউ ব্যারাকপুরে। ভুক্তভোগীর নাম সুদীপ বসু। তার অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর এয়ারপোর্ট থানায় মামলা রুজু করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৩, ৩০৩(২), ৩১৬(২) ও ৩১৮(৪) ধারায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। এরপর অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত তরুণী জিয়াকে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, জিয়া সুদীপের মোবাইল ফোন বিক্রি করে দিয়েছেন বাংলাদেশের এক যুবকের কাছে। এরপর পুলিশ রাজশাহীর বাসিন্দা হাসান নামে ওই যুবককে কলকাতার দমদম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, জিয়ার কাছ থেকে মোট ১০টি মোবাইল ফোন কিনেছিলেন তিনি এবং সেগুলো বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত হাসান পুলিশি হেফাজতে থেকে জানিয়েছেন, তিনি চুরি করা মোবাইল পাচারের সঙ্গে যুক্ত এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করতেন, যার মধ্যে পার্ক স্ট্রিটের একটি হোটেল অন্যতম। তার কাছে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কি না এবং এই চক্রে আর কেউ জড়িত আছে কি না, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।



