ভৌগোলিক অবস্থান, পুষ্টি এবং জীবনযাত্রার মানভেদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের উচ্চতায় লক্ষ্যণীয় বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়। ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ ২০২৫’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উচ্চতার দৌড়ে ইউরোপীয় দেশগুলো বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘকায় মানুষের দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে, যেখানে পুরুষদের গড় উচ্চতা ৬ ফুট ১ ইঞ্চি এবং নারীদের ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। ডাচদের পরেই মন্টিনিগ্রো, ডেনমার্ক এবং আইসল্যান্ডের মতো দেশগুলোর অবস্থান, যেখানে পুরুষদের গড় উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং সঠিক পুষ্টির কারণেই এই অঞ্চলের মানুষের শারীরিক গড়ন বিশ্বজুড়ে অনন্য।
বিপরীতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার বেশ কিছু দেশে বিশ্বের সবচেয়ে খর্বকায় জনসংখ্যা দেখা যায়। তালিকায় সর্বনিম্ন গড় উচ্চতা নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে পূর্ব তিমুর, যেখানে পুরুষদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। বাংলাদেশ, নেপাল, কম্বোডিয়া এবং ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোর পুরুষদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চির কোটায় রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও নেপালের নারীদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট। গুয়াতেমালার নারীদের গড় উচ্চতা মাত্র ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি, যা বৈশ্বিক তালিকায় সর্বনিম্ন।
মানুষের উচ্চতার এই বিশাল পার্থক্য মূলত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক অবস্থা, উন্নত জীবনমান এবং পুষ্টির সহজলভ্যতার প্রতিফলন ঘটায়। উন্নত দেশগুলোতে যেমন শারীরিক বিকাশের সুযোগ বেশি, তেমনি অনেক অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশে পুষ্টিহীনতা ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব উচ্চতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই পরিসংখ্যানগুলো বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্যকেই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।



