নাটোরের লালপুরে সাইবার অপরাধের অভিযোগে স্থানীয়ভাবে ‘হ্যাকার সম্রাট’ নামে পরিচিত ৩২ বছর বয়সী ওহিদুল মোল্লাসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের রাজত্ব গড়ে তোলার বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, নিজেকে গ্রেপ্তারের হাত থেকে বাঁচাতে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে ওহিদুল বেশ চতুরতার আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি নিজের বাড়ি থেকে শুরু করে গ্রামের প্রধান সড়ক পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। শুধু তাই নয়, আত্মগোপনে থাকার জন্য তিনি তৈরি করেছিলেন একটি অভিনব গোপন আস্তানা। বাইরে থেকে সাধারণ একটি ‘কবুতরের ঘর’ মনে হলেও ভেতরে ছিল খাট, দামি আসবাবপত্র, সিসিটিভি মনিটর এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্রসহ সব ধরনের আধুনিক সুবিধা। এই শীতাতপনিয়ন্ত্রিত গোপন কক্ষটিকেই তিনি তার সাইবার অপরাধ পরিচালনার মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওহিদুলকে তার নিজের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। অভিযানে ওই গোপন কক্ষটি থেকে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৬৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এই ৬৮টি সিম কার্ড মাত্র সাতটি মুঠোফোনে অদলবদল করে ব্যবহার করা হতো। ওহিদুলের নেতৃত্বে এই শক্তিশালী চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার এবং ইমোর মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিল।
পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে এতসব অত্যাধুনিক সুরক্ষাব্যবস্থা ও গোপন আস্তানা গড়ে তুললেও শেষ রক্ষা হয়নি এই সাইবার অপরাধী চক্রের। গ্রেপ্তারের পর ওই ছয়জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২২ সেপ্টেম্বর তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সাইবার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মানুষের সাথে প্রতারণাকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।



