নতুন সরকার গঠনের পর দেশের অন্যান্য খাতের মতো সংস্কৃতি অঙ্গনেও পরিবর্তনের প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন, সংকট নিরসন এবং টেকসই বিকাশের লক্ষ্যে নতুন সরকারের কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক Shakib Khan। তার মতে, চলচ্চিত্র শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে প্রথমেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং একটি পেশাদার কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
গণমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও সরকারি অনুদান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান চান। বিচারপ্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ দূর করতে স্বচ্ছ কমিটি গঠন, অনলাইন স্কোরিং পদ্ধতি চালু এবং মূল্যায়নের বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশের প্রস্তাব দেন তিনি। তার মতে, নির্দিষ্ট মানদণ্ডভিত্তিক মূল্যায়ন চালু হলে প্রকৃত মেধাবীরা কাজের সুযোগ পাবেন এবং শিল্পে আস্থা ফিরে আসবে।
দেশের প্রেক্ষাগৃহ সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সিনেমা হল বাড়ানোর উদ্যোগ মাঝেমধ্যে শোনা গেলেও বাস্তব অগ্রগতি খুব কম। জরাজীর্ণ হল সংস্কারে স্বল্পসুদে ঋণ, করছাড় এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণের ওপর জোর দেন তিনি। যেসব জেলায় এখনো সিনেমা হল নেই, সেখানে কম আসনসংখ্যার ডিজিটাল মিনি প্রেক্ষাগৃহ স্থাপনের প্রস্তাবও দেন, যাতে স্থানীয় উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে উৎসাহিত হন।
প্রেক্ষাগৃহ আধুনিকায়নে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনার আহ্বান জানিয়ে তিনি নতুন হল নির্মাণে ভ্যাট-ট্যাক্স ছাড়, জমি লিজে সুবিধা এবং আমদানি করা প্রজেকশন ও সাউন্ড যন্ত্রপাতিতে শুল্ক কমানোর দাবি জানান। পাশাপাশি আধুনিক ডিজিটাল প্রজেকশন, উন্নত সাউন্ড সিস্টেম এবং অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে দর্শকের সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দর্শক ফেরাতে দেশীয় চলচ্চিত্রের জন্য নির্দিষ্ট প্রদর্শন কোটা চালু, উৎসবভিত্তিক বিশেষ প্রদর্শনী আয়োজন এবং পরিবারবান্ধব কনটেন্টে সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, প্রেক্ষাগৃহকে শুধু সিনেমা প্রদর্শনের স্থান হিসেবে নয়, বরং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। সবশেষে, চলচ্চিত্র শিল্পের সার্বিক বিকাশে একটি ঝামেলামুক্ত, নিরাপদ ও পেশাদার কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।



