মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপের সামাজিক ও পরিবার উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ড. আয়শাথ শিহামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মালদ্বীপের সামাজিক ও পরিবার উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সামাজিক কল্যাণ, পরিবার উন্নয়ন এবং সামগ্রিক সামাজিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। বৈঠকে অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক উন্নয়ন ও পারিবারিক মূল্যবোধ সংরক্ষণে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারও স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
আলোচনায় মন্ত্রী ড. আয়শাথ শিহাম তার মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যক্রম তুলে ধরেন। এর মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সেবা, শিশু নির্যাতনের শিকারদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন, পাশাপাশি সামাজিক ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য সমন্বিত সহায়তা কর্মসূচির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তিনি মালদ্বীপের সামাজিক ও পারিবারিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, মালদ্বীপের উন্নয়নে বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক ও পরিবার উন্নয়ন মন্ত্রণালয় বাংলাদেশি নাগরিকসহ প্রবাসী পরিবার ও শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দিয়ে থাকে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের নাগরিকদের মধ্যে বাড়তে থাকা বৈবাহিক সম্পর্ককে দুই দেশের মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সামাজিক সংহতির ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বাংলাদেশি প্রবাসী ও তাদের পরিবারের প্রতি মালদ্বীপ সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক নীতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সামাজিক সংহতি, পরিবার কল্যাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ পরিবার কল্যাণ, শিশু সুরক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে যৌথ সেমিনার, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাবনা অনুসন্ধানে একমত হন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্যকে আরও সুদৃঢ় করবে।



