দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি শিক্ষিত বেকার যুবক রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি গত ১৫ বছরে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেটিকে পুনরুদ্ধার করা সহজ হবে না। তার ভাষায়, দেশে একটি চাকরির জন্য ৫ থেকে ৬ লাখ পর্যন্ত আবেদন জমা পড়ছে। এমনকি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছোট পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেও হাজার হাজার আবেদন এসেছে। তিনি বলেন, এত বড় বেকারত্বের সমস্যা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কর্মমুখী শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশে স্বাভাবিক। তবে এই সময়কে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি জানান, সরকার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে এবং দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলকে ‘অ্যাগ্রিকালচার হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।
ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতি হতে হবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বর্তমান সরকার সেগুলো পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। তবে এ কাজ সহজ নয়; এজন্য আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।
জ্বালানি সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, দেশে গ্যাস ও জ্বালানির ঘাটতি উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান এবং গ্রিন এনার্জি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে তিনি দেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের পুনর্গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।



