সকালে ঘুম ভাঙাতে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা দুধ চা বাঙালির কাছে কেবল একটি পানীয় নয়, বরং এক আবেগ। আড্ডায় কিংবা কাজের ফাঁকে দুধ চা ছাড়া আমাদের চলেই না। তবে এই প্রিয় অভ্যাসটিই যদি নিয়মিত মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তবে তা শরীরের জন্য বড় ধরনের বিপত্তি ডেকে আনতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, দুধ চা স্বাদে অতুলনীয় হলেও এর স্বাস্থ্যগত উপযোগিতা খুবই সামান্য, বরং অতিরিক্ত পানে নানাবিধ শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
পুষ্টিগুণ হারায় যেভাবে: চায়ের প্রধান গুণ হলো এতে থাকা ‘ক্যাটেচিন’ নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, চায়ের সাথে দুধ মেশালে এই ক্যাটেচিন দুধে থাকা ‘কেজিন’ প্রোটিনের সাথে বিক্রিয়া করে। ফলে চা তার অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের গুণ হারায় এবং দুধও তার প্রোটিনের কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। এই মিশ্রণটি শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা থেকে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন হতে পারে। বিশেষ করে যারা দিনে দুই থেকে তিন কাপের বেশি দুধ চা পান করেন, তাদের হজমের সমস্যা, গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
ত্বক ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব: অতিরিক্ত দুধ চা পানের প্রভাব কেবল পাকস্থলীতেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি ত্বকেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত দুধ চা পানে ব্রণ ও ফুসকুড়ির প্রবণতা বাড়ে। এছাড়া এর সাথে চিনি বা কনডেন্সড মিল্ক যোগ করলে ওজন বৃদ্ধি, দাঁতের ক্ষয় এবং রক্তচাপ ওঠানামার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও চিনির প্রভাবে ঘুমের ব্যাঘাত বা ইনসোমনিয়াও দেখা দেয়।
সচেতন হওয়ার উপায়: পুষ্টিবিদরা দুধ চা পুরোপুরি বর্জনের কথা না বললেও এটি পানে লাগাম টানার পরামর্শ দিয়েছেন। সপ্তাহে দুই-তিন দিনের বেশি দুধ চা না খাওয়াই শরীরের জন্য নিরাপদ। বিকল্প হিসেবে আদা চা, লেবু চা বা ভেষজ চা পান করা যেতে পারে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য গ্রিন টি হতে পারে সেরা বিকল্প। একটু সচেতনতা আর অভ্যাসের পরিবর্তনই পারে আপনার প্রিয় পানীয়টিকে বিষে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করতে।



