দেশজুড়ে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে আগামী দুই মাসের মধ্যে অন্তত ১ হাজার খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নেই খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ২৭টি জেলায় খাসজমির ৪০৩টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জমি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রাজধানী ঢাকাতেও খেলাধুলার পরিবেশ উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯০টি খেলার মাঠকে খেলাধুলার উপযোগী করে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে নগর এলাকার শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ১০টি খেলায় প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর ফলে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার চর্চা বাড়ার পাশাপাশি নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকায় অনেক শিশু বর্তমানে মাঠের পরিবর্তে মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসে বেশি সময় কাটাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সবার জন্য উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরি করা গেলে শিশুদের সুস্থ জীবনযাপন, সামাজিক যোগাযোগ এবং সৃজনশীল বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জমি নির্বাচন, মাঠের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু মাঠ নির্মাণ নয়, সেগুলো যেন দীর্ঘমেয়াদে শিশু-কিশোরদের ব্যবহারের উপযোগী থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
পরিকল্পনাটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খেলাধুলার সুযোগ বাড়বে এবং তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়াঙ্গন আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এখন দেখার বিষয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাঠ প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের এই উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়িত হয়।



