ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, গৌরব আর ইতিহাস। প্রতি চার বছর পর বিশ্বের সেরা দল হওয়ার লড়াইয়ে নামে দেশগুলো, আর সেই স্বপ্নের ট্রফি হাতে তোলার মুহূর্তটিই হয়ে ওঠে ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন। কিন্তু বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমনও ঘটনা রয়েছে, যা ফুটবল দুনিয়াকে স্তম্ভিত করেছিল। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি—বিশ্বকাপ ট্রফি দুইবার চুরি গিয়েছিল। তখন অবশ্য বর্তমান ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ছিল না, ব্যবহৃত হতো বিখ্যাত ‘জুলে রিমে কাপ’। আর সেই ট্রফিকেই ঘিরে ঘটেছিল দুই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা।
১৯৬৬: ইংল্যান্ডে প্রদর্শনী থেকে উধাও ট্রফি
প্রথমবার জুলে রিমে ট্রফি চুরি যায় ১৯৬৬ সালে, বিশ্বকাপের আয়োজক ইংল্যান্ডে। সাধারণ মানুষের জন্য ট্রফিটি কাচের বাক্সে রেখে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তার গাফিলতির সুযোগেই ট্রফিটি চুরি হয়ে যায়। ঘটনার পর স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে ফোন করে অপরাধীরা মুক্তিপণ দাবি করে। পুলিশ এডওয়ার্ড বেটলি নামে এক প্রাক্তন সেনাকে গ্রেফতার করলেও তাঁর কাছ থেকে ট্রফি উদ্ধার করা যায়নি। অবশেষে ‘পিকেলস’ নামের একটি কুকুর দক্ষিণ লন্ডনের এক ঝোপের মধ্যে মোড়ানো অবস্থায় ট্রফিটি খুঁজে পায়। কুকুটির মালিক ডেভিড করবেটকে পুরস্কৃত করা হয়। সেই ট্রফি নিয়েই বিশ্বকাপ জয়ের উৎসব করে ইংল্যান্ড।
ব্রাজিলে দ্বিতীয়বার চুরি, আর কখনও ফেরেনি ট্রফি
বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও দেশ তিনবার জুলে রিমে কাপ জিতলে আসল ট্রফিটি স্থায়ীভাবে তাদের দেওয়া হতো। ১৯৭০ সালে তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ট্রফিটির মালিকানা পায় ব্রাজিল। রিও ডি জেনিরোয় ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের অফিসে বুলেটপ্রুফ কাচের বাক্সে ট্রফিটি সংরক্ষণ করা হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল বাক্সটির কাঠের কাঠামো। ১৯৮৩ সালে সেই কাঠ ভেঙে ট্রফিটি চুরি করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। সের্জিও পেরাল্তা নামে এক ব্যাঙ্কারের পরিকল্পনায় এক প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা ও এক ডেকরেটর এই চুরির কাজে অংশ নেয়। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করলেও ট্রফিটি আর কখনও উদ্ধার করা যায়নি। তদন্তে উঠে আসে, হুয়ান কার্লোস হার্নান্ডেজ নামে এক সোনার কারিগর ট্রফিটি গলিয়ে সোনা আলাদা করে ফেলেছিলেন। সেই কারণে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মূল্যবান ট্রফিটি চিরতরে হারিয়ে যায়।



