মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান। তেহরানের খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক কমান্ড সদর দফতর-এর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি এ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যদি আরও অবনতি হয়, তাহলে বিশ্বকে তেলের বড় মূল্যবৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই হিসেবে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ২০০ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ হাজার টাকারও বেশি হতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইব্রাহিম জোলফাকারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরানের প্রতিশোধমূলক সীমিত পাল্টা হামলার নীতি শেষ হয়েছে এবং এখন থেকে ‘আঘাতের বদলে আঘাত’ নীতি অনুসরণ করা হবে। তার দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের অংশীদারদের কাছে এক লিটার তেলও যেতে দেওয়া হবে না এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো জাহাজ বা ট্যাংকার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।
অন্যদিকে ইরানকে ঘিরে সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে। তার মতে, ইরানে হামলার মতো উল্লেখযোগ্য লক্ষ্যবস্তু এখন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, এই অভিযান প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফল হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী নির্ধারিত সময়ের আগেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মূল ছয় সপ্তাহের পরিকল্পনার তুলনায় অনেক বেশি অগ্রগতি অর্জন করা হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবির সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ অতীতেও তিনি একাধিকবার বিভিন্ন বিষয়ে নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করেছেন বলে সমালোচকরা উল্লেখ করছেন।



