
বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিল্পীদের জনপ্রিয়তার মাপকাঠি অনেকটাই বদলে গেছে। এখন সাফল্যের হিসাব হয় ডিজিটাল ‘স্ট্রিমিং’ প্ল্যাটফর্মে। আর এই প্ল্যাটফর্মেই এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন চট্টগ্রামের তরুণ গায়ক তানভীর ইভান। কোনো রকম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই স্পটিফাইয়ে বাংলাদেশের ‘শীর্ষ শিল্পী’ বা টপ আর্টিস্ট হিসেবে ধারাবাহিক স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি ।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, তানভীরের গানের শ্রোতা কেবল দেশে নয়, বরং ছড়িয়ে আছে বিশ্বজুড়ে। স্পটিফাইয়ে ১৮০টি দেশের প্রায় ২২ লাখ শ্রোতা তাঁর গান শোনেন । অবাক করা বিষয় হলো, বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের শ্রোতারাই তাঁর গান সবচেয়ে বেশি শোনেন ! পাশাপাশি ইউটিউবে তাঁর ৩৩ লাখ সাবস্ক্রাইবার রয়েছে এবং তাঁর প্রথম দিকের একটি গান ‘ম্যায়নে রোয়া’-এর ভিউ প্রায় ৩০ কোটির কাছাকাছি ।
২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) পড়ার সময় তাঁর এই যাত্রার শুরু । সংগীতে তাঁর কোনো প্রথাগত বা আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, বরং নিজের চেষ্টায় ও শুনে শুনেই তিনি নিজেকে তৈরি করেছেন । তাঁর গাওয়া ‘অভিযোগ’, ‘ছেড়ে যেয়ো না’ এবং ‘অভিমান’-এর মতো গানগুলো শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীরভাবে জায়গা করে নিয়েছে, যার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারও । তাঁর গানের মূল শক্তি হলো আবেগ, যেখানে না-পাওয়ার বেদনা ও একাকিত্বের গল্পগুলো সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে ।
তবে এই অভাবনীয় সাফল্যের গল্পে একটি বড় ধরনের চমক রয়েছে! পরিচিতি ও প্রতিষ্ঠা পেতে দেশের প্রায় সব শিল্পী যখন রাজধানী ঢাকামুখী হন, তানভীর ইভান তখন সম্পূর্ণ উল্টো পথে হেঁটেছেন । তিনি ঢাকায় না থেকে চট্টগ্রামের খুলশীর নিজ বাড়িতে গড়া ছোট স্টুডিও থেকেই গান লেখেন, সুর করেন এবং রেকর্ড করেন । তিনি বছরে মাত্র ৩ থেকে ৪টি স্টেজ শো করেন এবং গত ১৩ বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ৫০টির মতো গান গেয়েছেন ।
সংখ্যার চেয়ে নিজের কাজের মান ও অনুভূতিকে প্রাধান্য দেওয়া এই আত্মবিশ্বাসী তরুণ প্রমাণ করে দিয়েছেন— নিজের মেধা, প্রতিভা আর একাগ্রতা থাকলে রাজধানী থেকে অনেক দূরে বসেও পুরো বিশ্বকে জয় করা যায় !


