ঢাকার সকাল মানেই নতুন দিনের ব্যস্ততা, আর সেই ব্যস্ততার সঙ্গে নিঃশব্দে মিশে থাকে ফুটপাতের মাছের বাজারের কোলাহল। ভোরের আলো ফুটতে না–ফুটতেই শহরের বিভিন্ন মোড়, গলি আর বাজারের সামনে দেখা মেলে সারি সারি মাছভর্তি টব, টুকরি আর বরফে ঢাকা প্লাস্টিকের বাক্স। বিক্রেতারা ঘুম জড়ানো চোখে বরফ ঝেড়ে তাজা মাছগুলো সাজিয়ে রাখছে—কেউ ইলিশ, কেউ রুই, কেউ আবার পুঁটি, টেংরা কিংবা লইট্টা তুলে ধরছে হাতের ঝাঁকুনিতে। তাজা নোনা পানির গন্ধ আর মানুষের টানাটানির শব্দে জমে ওঠে ফুটপাতের সকাল।
ফুটপাতের এসব বাজারে ক্রেতার ভিড় যেন নদীর স্রোত। কেউ দামাদামি করে, কেউ হাতে তুলে মাছের গা দেখে তাজা কি না যাচাই করে। ব্যস্ত শহরের মানুষ এখানে আসে কারণ দাম তুলনামূলক কম, পছন্দ করার সুযোগ বেশি, আর সেই সাথে আছে এক ধরনের সরল মানবিক সম্পর্ক—বিক্রেতা আর ক্রেতার চোখের ভাষায় বিশ্বাসের একটা বন্ধন তৈরি হয়।
চলমান যানবাহনের শব্দ, পাশে গরম ভাপ ওঠা নাস্তার দোকান, আর সামনে ভেজা বরফ ঝরঝর করে পড়া মাছের টব—সব মিলিয়ে যেন এক আলাদা শহুরে সংস্কৃতি। এই ফুটপাতের বাজারগুলো শুধু মাছ কিনে নেওয়ার জায়গা নয়; এগুলো ঢাকার জীবনের অংশ, শহরের প্রাণচাঞ্চল্যের এক স্বতন্ত্র ছবি।
ঢাকার ফুটপাতের এই মাছের বাজার তাই শুধু বাজার নয়—এটা শহরের ছন্দ, মানুষের জীবনযাত্রার এক টুকরো গল্প।



