তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই দ্রুত বা ‘ঢক ঢক’ করে একবারে অনেকটা পানি পান করেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি সাধারণ মনে হলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস শরীরের জন্য সবসময় উপকারী নয়। বরং ধীরে ধীরে বা চুমুক দিয়ে পানি পান করাই সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি। দ্রুত পানি পান করলে তা শরীরের কোষে সঠিকভাবে শোষিত হওয়ার আগেই কিডনির মাধ্যমে প্রস্রাব হয়ে বেরিয়ে যায়, ফলে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা পুরোপুরি কাটে না। অন্যদিকে, ধীরে পানি পান করলে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং রক্তে লবণের ঘনত্ব হঠাৎ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
হজম প্রক্রিয়ার উন্নতিতেও ধীরে পানি পানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। চুমুক দিয়ে পানি পান করার সময় মুখের লালা পানির সাথে মিশ্রিত হয়। লালার অ্যালকালাইন গুণ পাকস্থলীর অ্যাসিডের ভারসাম্য রক্ষা করে গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যা কমায়। এছাড়া, সচেতনভাবে ধীরে পানি পান করলে শরীরের ‘ভ্যাগাস নার্ভ’ সক্রিয় হয়, যা মানসিক চাপ কমিয়ে শরীরকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। দ্রুত পানি পানের ফলে পেটে অতিরিক্ত বাতাস ঢুকে হিক্কা বা অস্বস্তিকর ঢেঁকুর ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও, ধীরে পানের অভ্যাস এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি দেয়। তাই সুস্থ থাকতে কেবল পর্যাপ্ত পানি পান করাই যথেষ্ট নয়, বরং পানের সঠিক পদ্ধতির দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।



