ফুটবল দুনিয়ায় ফিটনেস ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় অন্যতম অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। অনুশীলন, খাবার এবং বিশ্রাম—সব কিছুতেই নিখুঁত পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলা মেনে চলেন এই পর্তুগিজ কিংবদন্তি। তবে সম্প্রতি রোনালদোর ঘুমের অভ্যাস নিয়ে প্রকাশ পেয়েছে এক চমকপ্রদ তথ্য—তিনি ফাইভজি প্রযুক্তিকে ভয় পান!
সৌদি ক্লাব আল-নাসরের হয়ে খেলা রোনালদো রাতে ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোন বিছানার পাশে রাখেন না। শুধু তাই নয়, তিনি নাকি ফাইভজি সিগন্যাল পর্যন্ত বন্ধ করে ঘুমান। বিষয়টি জানিয়েছেন তার সাবেক পর্তুগিজ সতীর্থ সেদ্রিক সোয়ারেস। ইএসপিএন ব্রাজিলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেদ্রিক বলেন, “রোনালদো এমনও সময় পার করেছে, যখন সে একেবারেই ফোন ব্যবহার করত না। সে বিশ্বাস করত, ফোন তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। তাই সে ফোন ঘরের বাইরে রেখে ঘুমাত। এমনকি ফাইভজি আসার পর সে আমাকে বলে, ‘সেদ্রিক, ফাইভজি ব্যবহার কোরো না, এটা ঘুমের ক্ষতি করে।’”
রোনালদোর বয়স এখন ৪০ হলেও, তিনি এখনো আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলছেন, গোল করে যাচ্ছেন এবং অনুশীলনে দিচ্ছেন শতভাগ। এই বয়সেও ফিটনেস ধরে রাখার রহস্য হিসেবে তিনি বারবার ঘুমের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। তার মতে, রাতজাগা বা ফোনে সময় কাটানো নয়, বরং মানসম্মত ঘুমই দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়ার মূল চাবিকাঠি।
রোনালদোর এমন আচরণ হয়তো অনেকে অতিরঞ্জিত ভাবতে পারেন। তবে কোভিড-১৯ সময়কালে ফাইভজি নিয়ে যে গুজব ছড়িয়েছিল, তাতে অনেকেই প্রযুক্তির প্রতি শঙ্কিত হয়েছিলেন। যদিও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে—ফাইভজি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়, এবং এটি ভাইরাস ছড়ায় না বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে না।
সম্প্রতি এক প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে রোনালদো ফ্রেঞ্চ ক্লাব তুলুজের বিপক্ষে গোল করেছেন। তবে আরেক ম্যাচে এস্ট্রেলা দা আমাদোরার বিপক্ষে হার মানতে হয় আল-নাসরকে। সামনে নতুন ক্লাব মৌসুমে ভালো কিছু করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রোনালদো।
রোনালদোর জীবনযাপন থেকে একটি বার্তা স্পষ্ট: “ফোন দূরে রাখুন, ঘুম ভালো করুন”। আর এই বার্তাই হয়তো তাকে ৪০ বছর বয়সেও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা পারফর্মার করে রেখেছে।



