আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত সিনেমা ‘প্রিন্স : ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ নব্বই দশকের ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের গল্প নিয়ে নির্মিত হলেও নির্মাণের দুর্বলতা ও চিত্রনাট্যের খাপছাড়া গাঁথুনিতে দর্শকের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ধীরগতির গল্প, অকারণ গোলাগুলি ও পুরোনো সিনেমার ছায়ায় আবর্তিত হয়েছে সিনেমাটি। ক্লাইমেক্স কিছুটা ভালো হলেও তা সিক্যুয়েলের জন্য আশা জাগাতে পারেনি।
শাকিব খানের কাঁধেই পুরো সিনেমার ভার। কস্টিউমে স্টাইলিশ লাগলেও দুই নায়িকা তাসনিয়া ফারিণ ও জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু চরিত্রায়নে দুর্বল। ফারিণ কম স্ক্রিনটাইম পেয়েছেন, আর জ্যোতির্ময়ীর সঙ্গে শাকিবের প্রেমের রসায়ন আরও গভীর হতে পারত। কলকাতার পিয়ান সরকারের অভিনয় সাবলীল হলেও অ্যাকসেন্ট প্রসঙ্গটি বারবার চোখে পড়েছে। দিব্যেন্দু ভট্টাচার্যের অভিনয় সংক্ষিপ্ত সময়েও প্রশংসনীয়।
সিনেমাটিতে কারিগরি ভুলের ছড়াছড়ি। নব্বই দশকের গল্পে ওয়াইফাই রাউটার ব্যবহার, ঢাকার গল্পে ভারতের দৃশ্য দেখানো, গাড়ি চালানোর দৃশ্যে কাঁচা গ্রিন স্ক্রিন ব্যবহার— সব মিলিয়ে নির্মাণমান হতাশাজনক। ‘অ্যানিমেল’ খ্যাত অমিত রায়সহ চারজন চিত্রগ্রাহক থাকার পরও সিনেমাটোগ্রাফি দুর্বল। গানগুলোর মধ্যে শুধু জি এম আশরাফের গাওয়া একটি স্যাড সং ছাড়া বাকি গান বা টাইটেল ট্র্যাক বিশেষ দাগ কাটতে পারেনি। আরাফাত মোহসীন নিধির ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরও ছিল সাদামাটা।
শাকিব খান না থাকলে বক্স অফিসের হিসাব কী হতো তা সহজেই অনুমেয়। দুর্বল নির্মাণ ও কারিগরি ত্রুটিতে ভরা এই প্রজেক্টটি শাকিব খানের ক্যারিয়ারে একটি শিক্ষণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।



