বিপিএলের শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালটি শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে একপেশে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে থাকা চট্টগ্রাম রয়্যালসকে কোনো সুযোগই দেয়নি রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। নিয়ন্ত্রিত ও আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিপিএলের শিরোপা নিশ্চিত করে রাজশাহী। আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৭৪ রান তোলে তারা, জবাবে চট্টগ্রাম গুটিয়ে যায় মাত্র ১১১ রানে।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিপিএলে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা জিতল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। এর আগে ২০১৯–২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস নামে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। বিপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি চারবার শিরোপা জিতেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, তিনবার ঢাকা এবং রাজশাহীর মতো দুবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশাল। একবার করে শিরোপা জিতেছে রংপুর রাইডার্স।
মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ে পাঠান চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে রাজশাহী। ওপেনিং জুটিতে তানজিদ হাসান তামিমের ঝড়ো ব্যাটিং আর সাহিবজাদা ফারহানের ধৈর্যশীল ইনিংসে আসে ৮৩ রান। ফারহান ৩০ বলে ৩০ রান করে আউট হন। পরে কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৭ রানের জুটি গড়েন তানজিদ। উইলিয়ামসন ১৫ বলে ২৪ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে বিদায় নেন।
নিজের ছন্দ ধরে রেখে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন তানজিদ হাসান তামিম। ফিফটি পেরিয়ে তুলে নেন অনবদ্য সেঞ্চুরি। এটি ছিল চলতি বিপিএলে তার চতুর্থ সেঞ্চুরি এবং বিপিএল ফাইনালে তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর আগে ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছিলেন ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবাল। ৬২ বলে ৬টি চার ও ৭টি ছক্কায় সাজানো ১০০ রানের ইনিংস খেলে রাজশাহীর জয়ের ভিত গড়ে দেন তানজিদ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১১ রান, আর জিমি নিশাম ৭ রানে অপরাজিত থাকেন। চট্টগ্রামের হয়ে শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম দুটি করে উইকেট নেন।
১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। মাত্র ১৮ রানের মধ্যে দুই ওপেনার সাজঘরে ফেরেন। নাঈম শেখ ৯ রান করেন, আর মাহমুদুল হাসান জয় রানের খাতা খুলতেই ব্যর্থ হন। হাসান নেওয়াজ করেন ১১ রান। এরপর মির্জা তাহির বেগ ও জাহিদুজ্জামান কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও ধীরগতির ব্যাটিংয়ে ম্যাচ দ্রুতই হাতছাড়া হয়ে যায়। জাহিদুজ্জামান ১৩ বলে ১১ রান করে আউট হন, আর মির্জা বেগের ৩৬ বলে ৩৯ রানের ইনিংসও হার এড়াতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১১১ রানেই থেমে যায় চট্টগ্রামের ইনিংস, আর উৎসবে মাতে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

