অনেকেই নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরেও সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীর ভারী বোধ করেন এবং দিনভর ক্লান্তিতে ভোগেন। বিশেষজ্ঞ ড. ক্রিস্টোফার জে. অ্যালেন-এর মতে, সুস্থ থাকার জন্য কেবল দীর্ঘ সময় ঘুমানো যথেষ্ট নয়, বরং ঘুমের মান (Sleep Quality) সঠিক হওয়া জরুরি। ঘুমের চক্রে যদি হালকা ঘুম, গভীর ঘুম এবং ‘আরইএম’ (REM) পর্যায়গুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন না হয়, তবে শরীর ও মস্তিষ্ক প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায় না। বিশেষ করে ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা স্লিপ অ্যাপনিয়া, অনিয়মিত ঘুমের রুটিন এবং শোয়ার আগে অতিরিক্ত মোবাইল বা ল্যাপটপের ব্যবহার ঘুমের মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সকালে সতেজ অনুভব করতে চাইলে গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। ভালো ঘুমের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা উচিত, যা শরীরের জৈবিক ঘড়িকে সচল রাখে। শোয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে ডিজিটাল ডিভাইসের নীল আলো থেকে দূরে থাকা এবং ঘরকে অন্ধকার ও ঠান্ডা রাখা ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’ নিঃসরণে সাহায্য করে। এছাড়া বিকেলে বা রাতে চা-কফি এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়াম গভীর ঘুমের সহায়ক। মনে রাখবেন, দীর্ঘক্ষণ বিছানায় পড়ে থাকা মানেই বিশ্রাম নয়; মানসম্মত ঘুমই আপনার সারাদিনের কর্মশক্তি ও মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতে পারে।



