ঘুমের সময় অনেকের মুখ দিয়ে লালা পড়া এক সাধারণ কিন্তু বিব্রতকর সমস্যা। যদিও বিষয়টি স্বাভাবিক, তবে অনেকেই তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন এবং প্রতিকার জানতে চান। কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
১. ঘুমানোর ভঙ্গি পরিবর্তন করুন
উপুড় বা কাত হয়ে ঘুমালে মাধ্যাকর্ষণের ফলে মুখ দিয়ে লালা গড়িয়ে পড়ে। এতে বালিশ ও কম্বল ভিজে গিয়ে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হতে পারে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চিত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।
২. সঠিক বালিশ ব্যবহার
অনেক সময় নিচু বালিশ ব্যবহারের ফলে মাথা শরীরের সমান থাকে এবং মুখ খুলে যায়, ফলে লালা পড়ে। তাই মাথা একটু উঁচু করে ঘুমাতে সহায়ক বালিশ ব্যবহার করুন।
৩. মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া বন্ধ করুন
নাক বন্ধ থাকলে অনেকেই ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেন, যা লালা পড়ার অন্যতম কারণ। নাক পরিষ্কার রাখুন, প্রয়োজনে ইউক্যালিপটাস তেল ব্যবহার করুন। সাইনাসজনিত সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৪. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কিছু ওষুধ অতিরিক্ত লালা উৎপন্ন করতে পারে। যদি কোনো ওষুধ খাওয়ার পর এই সমস্যা শুরু হয়, তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টি বিবেচনা করুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
৫. ঘুমের ব্যাঘাত ও স্লিপ অ্যাপনিয়া
স্লিপ অ্যাপনিয়ার কারণে ঘুমে বিঘ্ন ঘটে এবং মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে, ফলে লালা পড়ে। নাক ডাকা, অস্থির ঘুম, অতিরিক্ত ক্লান্তি—এসব লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
৬. ওজন নিয়ন্ত্রণ
অতিরিক্ত ওজন শ্বাস-প্রশ্বাসে চাপ সৃষ্টি করে এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এই সমস্যার সমাধানে সহায়ক।
৭. প্রয়োজনে সার্জারি
যদি অন্যান্য পদ্ধতি ব্যর্থ হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ন্যাজাল সার্জারি, ইউপিও, টনসিলেকটমি ইত্যাদি সার্জারি বিবেচনা করা যেতে পারে।
ঘুমের সময় মুখ দিয়ে লালা পড়া কোনো গুরুতর রোগ না হলেও এটি জীবনের গুণগত মানে প্রভাব ফেলতে পারে। সঠিক অভ্যাস, সচেতনতা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এ সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।



