গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন অবস্থায় হঠাৎ দম আটকে জেগে উঠা—শ্বাস নিতে না পারা, বুক ভারী লাগা বা মনে হওয়া যেন কেউ চেপে বসেছে—এ অভিজ্ঞতা খুবই ভয়ংকর। যদিও কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, তবু সেই মুহূর্তের আতঙ্ক সহজে ভুলা যায় না। যদি এমনটা বারবার ঘটে, তবে একে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এটি হতে পারে স্লিপ অ্যাপনিয়া নামের একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ।
স্লিপ অ্যাপনিয়া কী?
স্লিপ অ্যাপনিয়া হলো ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার একটি শারীরিক সমস্যা, যা কয়েক সেকেন্ড থেকে এক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। নিয়মিতভাবে এই সমস্যা দেখা দিলে ঘুমের গুণগত মান নষ্ট হয় এবং শরীরের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। সাধারণত এটি দুই ধরনের হয়ে থাকে:
অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া – গলার পেশি শিথিল হয়ে শ্বাসনালি আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
সেন্ট্রাল স্লিপ অ্যাপনিয়া – মস্তিষ্ক শ্বাস-প্রশ্বাস চালিয়ে যাওয়ার সংকেত ঠিকভাবে না দিলে এমন হয়।
কেন বিপজ্জনক?
স্লিপ অ্যাপনিয়া শুধু বিরক্তিকর নয়, এটি হতে পারে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিসের কারণ। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয়। মানসিক অবসাদ ও উদ্বেগজনিত সমস্যা বাড়ে।
কীভাবে বুঝবেন আপনি স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগছেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের লক্ষণগুলো দেখা গেলে দ্রুত সতর্ক হওয়া জরুরি:
মাঝরাতে দম বন্ধ হয়ে ঘুম ভেঙে যাওয়া
অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঝিমুনি বা সকালে মাথাব্যথা
মনোযোগে ঘাটতি ও মুড সুইং
সকালে গলা শুকনো বা গলা ব্যথা
জোরে ও অনিয়মিত নাক ডাকা
করণীয় কী?
ঘুমের ভঙ্গি পরিবর্তন করুন: চিত হয়ে না শুয়ে পাশ ফিরে ঘুমানোর অভ্যাস করুন।
ওজন কমান: অতিরিক্ত ওজন গলায় চর্বি জমিয়ে শ্বাসনালিতে চাপ সৃষ্টি করে।
ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন: এগুলো শ্বাসনালির পেশি শিথিল করে দেয়, যা সমস্যা বাড়ায়।
ঘুমের অভ্যাস ঠিক করুন: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও পর্যাপ্ত গভীর ঘুম জরুরি।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: স্লিপ স্টাডি বা পলিসোমনোগ্রাফি পরীক্ষা করে সমস্যার মাত্রা নির্ণয় সম্ভব। গুরুতর হলে চিকিৎসক সিপিএপি মেশিন ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন, যা ঘুমের সময় শ্বাসপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখে।
মানসিক স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ
ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকের জন্য মানসিকভাবে ভীতিকর হতে পারে। এতে উদ্বেগ বা প্যানিক অ্যাটাক দেখা দিতে পারে। প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা থেরাপি গ্রহণ করুন—এটা কোনো দুর্বলতা নয় বরং দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত।
ঘুম কেবল বিশ্রাম নয়, এটি শরীর ও মনের পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া। তাই ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হওয়া বা অনিয়মিত শ্বাসপ্রশ্বাসের মতো সমস্যাকে অবহেলা নয়, বরং গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।



