
দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে কাঁচামাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে বড় নীতিগত পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন এই উদ্যোগের ফলে গার্মেন্টস কারখানাগুলো এখন আগের তুলনায় অনেক সহজে ও কম খরচে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
সরকার ইতোমধ্যে পোশাকশিল্পে ব্যবহৃত কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল আমদানির ওপর আরোপিত উৎস কর (সোর্স ট্যাক্স) বাতিল করেছে। ফলে তুলা, সিনথেটিক ফাইবারসহ বিভিন্ন টেক্সটাইল কাঁচামাল আমদানি এখন শূন্য শতাংশ করের আওতায় এসেছে, যা শিল্পের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া পোশাক প্রস্তুতকারকদের জন্য বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে সরাসরি কাঁচামাল আনার নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে ক্রেতারা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত “ফ্রি-অব-চার্জ (এফ ও সি)” কাঁচামাল সরবরাহ করতে পারতেন, কিন্তু নতুন নীতিতে এই সীমা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের সঙ্গে কাজ করা আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্য উৎপাদন বাড়বে এবং প্রথম বছরেই অতিরিক্ত প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পরবর্তী বছরগুলোতে এই আয় ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহকেও উৎসাহিত করতে রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোর জন্য কিছু পণ্যে ভ্যাট ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল কিনলে আগের মতো অতিরিক্ত কর দিতে হবে না, যা উৎপাদন ব্যয় কমাতে সাহায্য করবে।
এছাড়া কাস্টমস প্রক্রিয়াও ডিজিটাল করা হয়েছে। রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন সিস্টেম চালুর ফলে কাঁচামাল ছাড়পত্র পাওয়ার সময় কমে আসবে এবং আমদানি প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গার্মেন্টস খাত বর্তমানে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখে। তাই কাঁচামাল আমদানি সহজ হলে উৎপাদন বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
তবে কিছু স্থানীয় টেক্সটাইল উদ্যোক্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে অতিরিক্ত বিদেশি কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বাড়লে দেশীয় শিল্প কিছুটা চাপের মুখে পড়তে পারে। তবুও সামগ্রিকভাবে এই নীতি পরিবর্তনকে দেশের রপ্তানি খাতের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন অধিকাংশ শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
