গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল সেবন করলে শিশুর অটিজম, এডিএইচডি বা আচরণগত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে—এমন ধারণা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। অটিজম, বিহেভিয়ারাল ডিসঅর্ডার ও এডিএইচডিতে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় অনেকেই এর পেছনের সম্ভাব্য কারণ খুঁজছেন। তবে এ বিষয়ে ছড়ানো অনেক দাবিরই শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
সম্প্রতি দ্য ল্যানসেট অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনোকোলজি–এ প্রকাশিত একটি বৃহৎ গবেষণা এই আশঙ্কাকে নাকচ করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের আইকাহন স্কুল অব মেডিসিন অ্যাট মাউন্ট সিনাইসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল, গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল সেবনের সঙ্গে শিশুদের নিউরোডেভেলপমেন্টাল সমস্যার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি এই ধারণা রাজনৈতিক পরিসরেও আলোচনার জন্ম দেয়। তবে নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, এই দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
গবেষণায় দেখা যায়, গর্ভাবস্থায় মা প্যারাসিটামল সেবন করলেও শিশুদের অটিজম, এডিএইচডি কিংবা বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। এই সমীক্ষায় ২ লাখ ৬২ হাজারের বেশি শিশুকে অটিজমের ঝুঁকি, ৩ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি শিশুকে এডিএইচডি এবং প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার শিশুকে বুদ্ধিবিকাশজনিত সমস্যার জন্য মূল্যায়ন করা হয়। বিশাল এই তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ করেই গবেষকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, প্যারাসিটামল সেবনের সঙ্গে এসব সমস্যার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার মূলত মস্তিষ্কের বিকাশসংক্রান্ত একটি অবস্থা, যেখানে সামাজিক যোগাযোগ ও আচরণে সমস্যা দেখা যায়। অন্যদিকে এডিএইচডি বা মনোযোগ ঘাটতি হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার একটি স্নায়বিক বিকাশজনিত সমস্যা, যার লক্ষণ শৈশব থেকেই শুরু হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক বয়স পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, এসব জটিল অবস্থার পেছনে গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল গ্রহণকে দায়ী করার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।



