রান্নাঘরের পরিচিত উপাদান ঘি শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, বরং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—এমন বিশ্বাস রয়েছে আয়ুর্বেদে হাজার বছর ধরে। আধুনিক ব্যস্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে স্মৃতিভ্রম, মনোযোগের ঘাটতি কিংবা ‘ব্রেন ফগ’-এর মতো সমস্যার সংখ্যা বাড়তে থাকায় ঘি আবারও আলোচনায় এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিমিত পরিমাণে ঘি নিয়মিত খেলে মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আয়ুর্বেদে ঘিকে বলা হয় ‘মেধ্য রসায়ন’, যা স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানও এই ধারণাকে সমর্থন করছে। ঘি-তে থাকা ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কোষের গঠন শক্তিশালী করে এবং স্নায়বিক সংযোগ উন্নত করে, ফলে শেখা ও মনে রাখার ক্ষমতা বাড়ে। এছাড়া ঘি-তে থাকা বিউটাইরিক অ্যাসিড শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে থাকা ‘গাট–ব্রেন অ্যাক্সিস’কে সক্রিয় রাখে, যা মানসিক স্বচ্ছতা ও মেজাজ ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।
ঘি ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে-এর গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বিশেষ করে ভিটামিন ই মস্তিষ্কের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষা দেয়, যা বয়সজনিত আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ঘি-তে থাকা কোলিন মস্তিষ্কের সংকেত আদান–প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা মনোযোগ বাড়াতে ও মানসিক ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করে।
মস্তিষ্কের সর্বোচ্চ উপকার পেতে ঘি খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি ও পরিমাণ জানা জরুরি। আয়ুর্বেদ মতে, সকালে খালি পেটে এক চামচ ঘি হালকা গরম পানির সঙ্গে খেলে তা দ্রুত শরীরে পুষ্টি সরবরাহ করে। দুপুরের খাবারে গরম ভাতে এক চামচ ঘি মিশিয়ে খেলে শক্তি ধীরে ধীরে মুক্ত হয় এবং খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কমে। সাধারণভাবে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ১–২ চামচ ঘি নিরাপদ বলে ধরা হয়। তবে হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে বলা যায়, স্বাদ ও ঐতিহ্যের বাইরে আধুনিক গবেষণাও ইঙ্গিত দিচ্ছে—পরিমিত ঘি মস্তিষ্কের জন্য উপকারী হতে পারে। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় গরম ভাতে এক চামচ ঘি যোগ করা হতে পারে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ানোর একটি সহজ ও কার্যকর অভ্যাস।



